প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিয়ে জামায়াতের আজকের আয়োজন দেখে জনগণ মন্তব্য করছে, ‘২৪-এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১-এর রাজাকার! মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের সবাইকে রাজাকারের সন্তান বললেও মেজর আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো। ফেস দ্য পিপল আয়োজিত আলোচিত সেই টকশোতে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাঁকেও মেজর আখতারুজ্জামান রাজাকারের বাচ্চা বলে আক্রমণ করেছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন করছে জামায়াত-শিবির ও রাজাকারের সন্তানেরা বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
রাশেদ লেখেন, সে সময় ফেস দ্য পিপলের সাগর ভাই মেজর আখতারুজ্জামানকে প্রশ্ন করেছিলেন, এরা সবাই রাজাকারের বাচ্চা কি না। জবাবে মেজর আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট, এরা শতভাগ রাজাকারের সন্তান!
রাশেদ বলেন, সেই জুলাইয়ের গাদ্দার ও গণহত্যার মদতদাতা মেজর আখতারুজ্জামান এখন জামায়াত নেতা হয়ে গেছেন। জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল বলা মেজর আখতারুজ্জামান এখন সুন্দর করে ‘নারায়েতকবির’ স্লোগান দিতে শিখে গেছেন। আর এতেই তিনি পাকা ঈমানদার ও জনগণের নেতা হয়ে গেছেন? ধর্ম ব্যবসা শিখে গেলে এ সমাজে রাজনীতি করতে আর কী লাগে? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাও যদি ক্ষমা চেয়ে জামায়াতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাহলে তিনিও কি দলটিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন?
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘জামায়াতের আমিরের পাশে দাঁড়িয়ে আজকে যখন মেজর আখতারুজ্জামান বলছিলেন, ইয়াহিয়া খানই তো ঠেকাইতে পারেনি, তোমরা কি ঠেকইবা!’
এ প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, মেজর আখতারুজ্জামান ‘ইয়াহিয়া খান ও ৭১-এর প্রসঙ্গে’ যেতেই হয়তো জামায়াতের আমির জিহ্বায় কামড় দিচ্ছিলেন আর ভাবছিলেন, ‘আরে কী কয়, কী কয়, এখনো পাক্কা জামায়াত তো হতে পারলি না!’ অথচ জামায়াতের আমির তাঁকে নিয়ে প্রশংসা করে বলেছেন, মেজর আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নেতা নন, পুরো বাংলাদেশের মানুষের নেতা। এরপরও তাঁর ৭১ প্রসঙ্গ টেনে আনার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন রাশেদ।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন আবারও বলেন, ‘যাই হোক, মেজর আখতারুজ্জামানকে নিয়ে জামায়াতের আজকের আয়োজন দেখে জনগণ মন্তব্য করছে, ২৪-এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১-এর রাজাকার!




