গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে, বরং ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও দেশে অস্থিরতাকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘রিকনসিলেশন’ বা সমঝোতার কোন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনায় সরকার আইনি পদক্ষেপ নেবে ।ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তা-ই করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে ডা. জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চ স্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
ডা. জাহেদ জানান, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী সন্ত্রাস। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা।
তিনি বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের জন্য যারা মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ করেছে, তাদের বিচার হতে হবে। যেই দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলে গেছে, তার জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত অনুতাপের কোনো লক্ষণ নেই, উপরন্তু তারা নানা রকম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার চেষ্টা হয়েছে। তার অপরাধ হচ্ছে তিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেন নিয়েছেন। শুধু এটি নয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যেই দল প্রকাশ্যে দেশের ভেতরে নানা রকম সহিংসতা ও সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাদের দলের প্রধানও এসব কাজ করে; সেখানে সরকারের দিক থেকে রিকনসিলিয়েশনের ইনিশিয়েটিভ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তিনি বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের ন্যূনতম কোনো সম্ভাবনা যদি থেকে থাকে, তাহলে সেটি আওয়ামী লীগকে তার জায়গা থেকে বলার কথা ছিল। দুই বছর পর তাদের আচরণ দেখে রিকনসিলিয়েশনের আদৌ কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না। ক্ষমা চাওয়া, অনুতাপ দূরে থাকুক; তারা হুমকি দিচ্ছে এবং নানা রকম সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার চেষ্টা প্রেশার গ্রুপ-ট্রুপ কিছু না—এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। সেটা নিয়ে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এ ধরনের পদক্ষেপ আনচ্যালেঞ্জড যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।




