সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়ে২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ ব্যবসায়ী শওকত আলীর বিরুদ্ধে আরেকটি অনুসন্ধান শুরু...

২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ ব্যবসায়ী শওকত আলীর বিরুদ্ধে আরেকটি অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে

শেল কোম্পানির মাধ্যমে আট হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অনুসন্ধান চলার মধ্যেই নতুন করে ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ আসায় সেটিও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিগগিরই প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে শেল কোম্পানির মাধ্যমে আট হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল। সর্বশেষ গত সোমবার শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরীন ও ছেলে জারান আলী চৌধুরীর আয়কর নথি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য, প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন ও পাসপোর্টের কপি এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আরেক চিঠিতে আর্থিক লেনদেনের বিবরণী চেয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন অনুসন্ধান দলের প্রধান মুস্তাফিজুর রহমান। ইতোমধ্যে এসব তথ্য দুদকের হাতে এসেছে। তথ্য-উপাত্তগুলো যাচাই ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরীন, ছেলে জারান আলী চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অন্তত ২৮টি ব্যাংকে ১৮৭টি হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শওকত আলীর নামে ১৪টি, তাসমিয়া আম্বারীনের নামে ১৫টি, জারা নামরীনের নামে ৯টি, জারান আলী চৌধুরীর নামে ৩টি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪৬টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। গত বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এসব হিসাবে ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা জমা এবং ৮ হাজার ২৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে হিসাবগুলোতে মোট স্থিতি রয়েছে ১৭৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। হিসাবগুলোর কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী ও সহায়ক দলিলাদি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত উৎস, বিএসইসি, সরকারি বন্ড ও জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিভাগ থেকে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। শওকত আলী চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থ পাচার, পাচারের অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ ও সম্পদ কেনার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। শওকত আলী চৌধুরী সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে কয়েকটি ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন–এমন কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। এসব ফ্ল্যাট কেনা ও বিনিয়োগে ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত একাধিক শেল কোম্পানি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্তের সময় শওকত আলী চৌধুরীর যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংক হিসাবে ২৫ মিলিয়ন ডলারের সন্ধান পায় বলে জানা গেছে। অর্থের উৎস সম্পর্কে শওকত আলী চৌধুরীর কাছে জানতে চায় এনসিএ। শওকত আলীর দেওয়া জবাব এনসিএর কাছে সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিএফআইইউ বা দুদকের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান না হওয়ায় ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। পরে ওই আইনজীবী অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত ২৫ আগস্ট এক আদেশে দুদকের কাছে করা ওই আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

দুদক সূত্র জানায়, দুদকে আসা অভিযোগের ভিত্তিতেই ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ