গুম ও মানবাধিকার নিয়ে শক্তিশালী আইন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত দিনে আমরা যারা গুম ছিলাম, প্রতি মুহূর্তে আমাদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময়ে তাদের স্বজনরা কীভাবে সময় কাটিয়েছে, সেটি তারা ছাড়া কেউ বুঝবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সুমনের মায়ের মানসিক অবস্থা কেউ বুঝবে না। আমার স্ত্রী-সন্তানদের কী অবস্থা হয়েছিল, সেটা অন্য কেউ বোঝার কথা নয়। আওয়ামী লীগের সময়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে ৭০৯ জন গুমের কথা কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ফিরে এসেছে ১৫৫ জন। আর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গুমের বিষয়ে ১৮৫০টি আবেদন পড়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ ধরনের গুম-খুনের কথা ছিল না। বিগ্রেডিয়ার আযমীর মতো অনেকে ফিরে আসলেও পরিবারের কাউকে পায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০-র মতো মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু আমাদের হিসাব মতো তা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কারণ বহু লাশ গায়েব করা হয়েছে এবং পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা গুম ও মানবাধিকার নিয়ে শক্তিশালী আইন উপস্থাপন করেছি। নতুন আইনে গুমের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে প্রত্যাশা, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমরা সংবিধানসহ সবকিছু ঢেলে সাজাব। গুমের শিকার সবার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার বিচার রাজনৈতিকভাবে হবে। গুম করে লাশ গায়েব করে ফেলা হয়েছে। অনুশোচনা, দুঃখ প্রকাশ তো দূরের কথা, একটি দেশে বসে একদল অযৌক্তিক কথা বলছে, যা লজ্জার। আওয়ামী লীগের দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে।
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াকআউট একটা প্রতিবাদ, সেটারও একটা নিয়ম আছে। ওয়াকআউট করলে জনগণ আপনাদের কথা জানবে না। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান, সবকিছুতে অংশগ্রহণ করুন, নিজেদের মতামত জানান।




