শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ। আজকের দিন বাংলাদেশের যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন দেশ গড়তে নতুন যাত্রাপথ রচনা করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সম্বলিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে গুম, খুন, অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। দেড় দশকের নৃশংসতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলে।’

জুলাই জাদুঘরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকা জরুরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা সাহস, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা তৈরি করছে। এতে নিজেদের অজান্তেই পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, ২৪ গণঅভ্যুত্থান দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের মতো চব্বিশের শহিদদের কখনো ভুলবে না দেশের জনগণ।’

বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিচার হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি বিচার হওয়া জরুরি।’

জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আহতদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৫০ জুলাইযোদ্ধাদের বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৩ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। জুলাইযোদ্ধাদের সহায়তার বিষয়ে সরকার আন্তরিক।’

দেশ আর কখনো তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৩১ দফার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। এ সময় গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য মঞ্চে আসন না থাকায় কিছু সময় তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে দর্শক সারিতে বসে ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মঞ্চে তার জন্য আসনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী, দুই মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী এবং একজন সচিব মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। তবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য সেখানে কোনো আসন সংরক্ষিত ছিল না। ফলে তিনি অন্য অতিথিদের সঙ্গে দর্শক সারিতেই বসেন।

একপর্যায়ে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ডেকে অধ্যাপক ইউনূসের জন্য মঞ্চে আসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

সে সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন চলছিল। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত মঞ্চে একটি অতিরিক্ত আসন আনা হয় এবং সেটি প্রধানমন্ত্রীর পাশেই স্থাপন করা হয়।

পরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঞ্চে উঠলে প্রধানমন্ত্রী তাকে হাসিমুখে স্বাগত জানান। মঞ্চে উঠে অধ্যাপক ইউনূস উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে সালাম জানান এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর পাশে নির্ধারিত আসনে বসেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ