শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েদেশের প্রথম নৌযান শুমারি উপলক্ষে রাজশাহীতে অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত

দেশের প্রথম নৌযান শুমারি উপলক্ষে রাজশাহীতে অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি সমšি^ত ও নির্ভুল তথ্যভান্ডার ˆতরির লক্ষ্যে আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে নৌযান শুমারি ২০২৬| আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এ উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়| বিভাগীয় পরিসংখ্যান দপ্তর আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনসুর রহমান এবং রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন| সেমিনারে নৌযান শুমারির পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও অগ্রগতি তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক মো. আব্দুল হালিম|

সেমিনারে জানানো হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ শুমারির উদ্দেশ্য হলো দেশের সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমšি^ত জাতীয় ডাটাবেজ ˆতরি করা| এ ডাটাবেজ নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ, গবেষণা, নৌযান ব্যবস্থাপনা এবং নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে| তবে সামরিক বাহিনীর নিজ¯^ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নৌযান এবং ইঞ্জিনবিহীন সাধারণ নৌকা এ শুমারির আওতার বাইরে থাকবে|

সেমিনারে আরও জানানো হয়, আগামী ৩ ও ৪ আগস্ট দেশের দুটি জেলায় পাইলট অপারেশনের মাধ্যমে শুমারির প্রশ্নপত্র ও তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি যাচাই করা হবে| এরপর ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০ দিনব্যাপী মূল শুমারি পরিচালিত হবে| এর আগে ৪ থেকে ১৭ মে পরিচালিত লিস্টিং ও ম্যাপিং কার্যক্রমে সারাদেশে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে| এসব নৌযানকে ২৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে যাত্রীবাহী বোট, বালিবাহী নৌযান, কার্গো, ট্রলার, ড্রেজার, স্পিডবোট, ফেরি এবং পর্যটন নৌযান উল্লেখযোগ্য| পুরো শুমারি কার্যক্রম কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউ (ঈঅচও) পদ্ধতিতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে পরিচালিত হবে|

রাজশাহী বিভাগের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বিভাগে মোট ২৩ হাজার ৫৮৭টি ইঞ্জিনচালিত নৌযান শনাক্ত হয়েছে| এর মধ্যে ঘাটভিত্তিক ১৩ হাজার ৬৫০টি এবং খানাভিত্তিক ৯ হাজার ৯৩৭টি|

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নৌযান শুমারির লক্ষ্য কেবল নৌযানের সংখ্যা নির্ধারণ নয়; বরং একটি নির্ভুল, ব্যবহারোপযোগী ও সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার ˆতরি করা, যা নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণ এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে|

তিনি বলেন, একটি শুমারির সফলতা কেবল তথ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভর করে না; বরং সেই তথ্য কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তার ওপরই প্রকৃত সফলতা নির্ভরশীল| তাই এমন তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে নৌপরিবহন ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে|
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রতিটি নৌযানের তথ্যের সঙ্গে জিও-লোকেশন সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে নৌযানের অবস্থান নির্ধারণ, নিবন্ধন, তদারকি ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে| একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমš^য় জোরদার হবে এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে|
তিনি নৌযান শুমারি ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নৌযান মালিক, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন|

সেমিনারে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার ও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, নৌযান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সরাসরি এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালকরা অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন|

আরও পড়ুন

সর্বশেষ