মনে করেন আপনার করযোগ্য আয় ১০ লাখ টাকা। ট্যাক্স হিসাব করার নতুন নিয়ম অনুযায়ী আপনার গ্রস ট্যাক্স হবে ৭৮,৭৫০ টাকা। (গত বছরের নিয়ম অনুযায়ী ৬৭,৫০০ টাকা) যদি আপনি NBR কর্তৃক নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করেন তাহলে সেই ৭৮,৭৫০ টাকা আপনাকে ট্যাক্স দিতে হবে না।
নির্ধারিত খাতগুলো হলো সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বিল বন্ড, সুকুক, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ব্যাংকে বা ফাইন্যান্স কোম্পানিতে DPS, লাইফ ইনসুরেন্স পলিসিতে বিনিয়োগ, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রভিডেন্ট ফান্ডে বিনিয়োগ ইত্যাদি।
এখন প্রশ্ন হলো কত টাকা বিনিয়োগ করলে কত টাকা কর ছাড় (ট্যাক্স রিবেট) পাওয়া যাবে.?
কত বিনিয়োগ করবেন সেটা একান্তই আপনার ইচ্ছে।
কিন্তু কত টাকা ছাড় পাবেন সেটা নির্ভর করছে নিচের ৩টা বিষয়ের উপর।
১. করযোগ্য আয়ের ৩% মানে হলো ১০ লাখ টাকার ৩% এ হয় ৩০,০০০ টাকা।
২. বিনিয়োগের পরিমাণের ১০% এবং
৩. ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এই ৩টা এমাউন্টের মধ্যে যাহা কম, তাহা আপনি গ্রস ট্যাক্স থেকে ছাড় পাবেন মানে কর রেয়াত পাবেন।
এইবার নতুন বাজেটে এখানেও সরকার একটা নিয়ম চেঞ্জ করার প্রস্তাব করেছে। যেমন: ২ নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে বিনিয়োগের পরিমাণের ১০%, এটা গতবছর পর্যন্ত ১৫% ছিল। সাড়ে ৭ লাখের যে লিমিট সেটা ছিল ১০ লাখ।
তার মানে হলো ৩০,০০০ টাকা ট্যাক্স রিবেট পাওয়ার জন্য যেখানে গত বছর আপনাকে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেই হতো সেখানে এবার ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
আর কেউ যদি ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তাহলে গতবার যেখানে ৩০ হাজার টাকা ছাড় পেয়েছিল, এবার সেখানে ২০ হাজার টাকা ছাড় পাবে। মানে, ১০ হাজার টাকা অধিক ট্যাক্স তাকে দিতে হবে।
যাইহোক, সরকার নিয়ম করলে সেটা আইন। সেই আইনের বাইরে আমাদের যাওয়ার সুযোগ নাই।
শুধু একটা ছোট্ট টেকনিক মনে রাইখেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ট্যাক্স রিবেট পেতে হলে করযোগ্য আয়ের ৩০% টাকা আপনাকে সেই নির্ধারিত জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে।
এই বিনিয়োগের শেষ টাইম ৩০শে জুন, আর মাত্র ৬/৭ দিন বাকি আছে।
যদি ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তাহলে আপনাকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে (৭৮,৭৫০-৩০,০০০) = ৪৮,৭৫০ টাকা।
আর যদি গতবারের মতো ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তাহলে আপনাকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে (৭৮,৭৫০-২০,০০০) = ৫৮,৭৫০ টাকা। (১০ হাজার বেশি ট্যাক্স)। আর যদি এক টাকাও বিনিয়োগ না করেন তাহলে আপনাকে পুরো ৭৮,৭৫০ টাকাই ট্যাক্স দিতে হবে।



