লাল মাটির বিস্তীর্ণ ক্যানভাসে গড়ে ওঠা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক শান্ত, সবুজ উপাখ্যান। ছোট্ট ছোট্ট টিলা, গাছপালা আর ঋতুভেদে ফুটে ওঠা নানা রঙের ফুলে মোড়ানো এই ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষার স্থান নয়; এটি হাজারো স্বপ্ন, সম্পর্ক আর স্মৃতির ঠিকানা। সকালের নরম রোদ, বিকেলের স্নিগ্ধ বাতাস আর সন্ধ্যার মায়ামাখা আলো–সব মিলিয়ে এই ক্যাম্পাস যে কাউকেই প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করে।
এই সৌন্দর্যের মাঝেই একসময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের হাত ধরে ২০১৮ সালে গড়ে ওঠে ‘বাবুই চত্বর’। মুক্তমঞ্চ-সংলগ্ন টিলার ওপর এক টুকরো জায়গাজুড়ে স্থান করে নিয়েছিল বাবুই চত্বরটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধু একটি চত্বর নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অসংখ্য স্মৃতি, গল্প আর অনুভূতির অংশ হয়ে উঠেছিল। নামে একটি চত্বর, কিন্তু তার চেয়েও যেন বেশি কিছু; অসংখ্য গল্পের নীরব শ্রোতা, বন্ধুত্বের আশ্রয় আর ভালোবাসার ছোট্ট ঠিকানা।
ক্যাম্পাসের টিলার উপরে দাঁড়িয়ে থাকা বাবুই চত্বর ছিল শিক্ষার্থীদের অবসর কাটানোর প্রিয় স্থান। ক্লাসের ফাঁকে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস, বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণখোলা আড্ডা কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে নীরব বিকেল–সবকিছুরই সাক্ষী ছিল এই জায়গাটি। কেউ সেখানে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এঁকেছে, কেউ গিটারের সুর তুলেছে, কেউবা চুপচাপ তাকিয়ে থেকেছে সূর্যাস্তের দিকে।
আজ সেই বাবুই চত্বর আর নেই। কিন্তু জায়গাটি হারালেও হারিয়ে যায়নি তার গল্পগুলো। এখনও টিলার পাশ দিয়ে হাঁটলে বাতাসে যেন ভেসে আসে পুরোনো হাসির শব্দ, অসমাপ্ত কথোপকথন আর স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি টিলা যেমন ইতিহাস ধারণ করে, তেমনি বাবুই চত্বরও ছিল এক সময়ের আবেগের অংশ।
বাংলা বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাওহিদ হোসাইন সানি বলেন, “বাবুই চত্বর আমাদের সবার পছন্দের একটি জায়গা ছিল। এখানে আমরা অনেক সময় কাটিয়েছি। সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। প্রশাসনের যত্নের অভাব এবং করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এটি বিলীন হয়ে যায়।”
বাবুই চত্বর গড়ার মূল ভূমিকায় ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, “প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চত্বরটি বিলীন হয়ে যায়। যদি শিক্ষার্থীরা আবারও আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে এটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কাম্য।”




