শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিননা ফেরার দেশে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

না ফেরার দেশে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

তার ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। মা পাঞ্জেবুনেছা।

শিক্ষাজীবনে মেধাবী মোশাররফ হোসেন ১৯৬৬ সালে লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মিরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ