শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েরাজধানীর প্রতিটি বাসায় সোলার বসানোর উদ্যোগ সরকারের

রাজধানীর প্রতিটি বাসায় সোলার বসানোর উদ্যোগ সরকারের

রাজধানীতে বিদ্যুতের লোড কমাতে প্রতিটি বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নির্মাণ সরঞ্জাম বিষয়ক বিআইআইডি এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ কথা জানান।

তিনি বলেছেন, বিদ্যুতের ব্যাকআপ ব্যবস্থা তৈরি করতে সোলার পাওয়ারকে সহজলভ্য করা হবে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নীতিগত সহায়তা। সরকার সোলার খাতের উদ্যোক্তাদের কর-সুবিধা দেয়ার বিষয়েও কাজ করছে। চলতি মাসের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ নীতি চূড়ান্ত করা হবে এবং জুনের মধ্যে তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি আদেশ হিসেবে জারি করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের অভাবে দেশে এখন পর্যন্ত ব্যাপকভাবে সোলার ব্যবস্থায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সোলার ও উইন্ড এনার্জিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়। বর্তমানে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। তবে সরকারের নতুন নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি তৈরি পোশাক খাতের কথা উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ এর দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেয়া বন্ডেড গুদাম সুবিধা ও ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র সুবিধা দেশের পোশাকশিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছিল। এর ফলে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাতে পরিণত হয়েছে।

একইভাবে সোলার খাতেও নীতিগত সহায়তা দিলে বড় পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, নিয়মকানুন আরো সহজ করা গেলে উদ্যোক্তারা ইনভার্টার, ফ্রেম, সৌর প্যানেলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহজে দেশে এনে স্থাপন করতে পারবেন।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারী উদ্যোক্তারা ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে ভবন মালিকদের বিদ্যুৎ দিতে পারবেন। মাস শেষে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে বিল সমন্বয় করা হবে এবং ভবন মালিকরাও এর একটি অংশ পাবেন। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য এটি লাভজনক খাতে পরিণত হবে এবং রাজধানীতে বিদ্যুতের চাপও কমবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, জ্বালানি প্রতিবেদক ফোরাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম. আজিজুর রহমান এবং খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ