জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নীতি পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে শেষে এসে বলছেন শরীয়া আইন চান না। আপনারা তো ভোটের জন্য ইউ হ্যাভ ডান ইট (এটা করেছেন)।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিধি-৬২’তে আনীত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, ‘আপনারা সারা জীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করলেন, এখন ভোটের প্রয়োজনে বলছেন শরীয়া আইন চান না। তাহলে আজকে সমস্যা কী? আমরা ইতিবাচক ভালো কিছু নিয়ে আসব। আমরা সংবিধানটাকেও সম্মান করি, আবার জুলাই সনদকেও সম্মান করি। কিন্তু আপনাদের এই দ্বিমুখী অবস্থান কেন?
সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, ‘আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় কাজটা করতে চাচ্ছেন? আপনারা সেই সময় কেন রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট (বিপ্লবী সরকার) করলেন না? ট্রানজিশনাল রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট করলে আপনারা সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে পারতেন। কিন্তু পুরোনো সংবিধানের ভেতর থেকে সেই সংবিধানকেই বাতিল করতে চাচ্ছেন– এটা আসলে হয় না।
তিনি বলেন, আমাদের জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। ঠিক আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম, বলত—যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত?—যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই আচরণটা দেখতে পাচ্ছি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্দেশে আন্দালিভ রহমান বলেন, এনসিপি যে আমাদের দল, আমাদের হিরোরা—যাঁরা যুদ্ধ করেছেন, যাঁরা এখানে আছেন—তাঁদেরকেও বলে দিই, আপনারা জেন-জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাবেন না।
সংবিধান রক্ষার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দেব? প্রয়োজনে সংশোধন বা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু ছিঁড়ে ফেলে দেওয়ার দরকার কী? সংবিধানের ওপরও আমাদের রেসপেক্ট থাকতে হবে। আপনারা মনে করছেন এটা ৭১-এর পরাজয়ের দলিল, তাই এটাকে ছিঁড়ে ফেলতে চান?
সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস টেনে আন্দালিভ রহমান বলেন, বাহাত্তরে সংবিধান তৈরির সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে বলি—রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমাতে গিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিপরিষদের ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছি। এ কারণে আমরা অনুধাবন করেছি পরিবর্তনের। আমরা মনে করি পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ কোথা হতে আসছে? সচরাচর আমরা যেভাবে সংবিধান পরিবর্তন করি, আমরা সেখানে থাকতে চেয়েছি। আমরা সেভাবে করব। আপনারা বসেন, আমাদের আপত্তি আছে—সেগুলো নিয়ে কথা বলি।
গণভোট প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘গণভোটে ৭০ শতাংশ “হ্যাঁ” ভোট পড়লেও সংবিধান পরিবর্তনের জন্য ৫১ শতাংশ তাদের (বিএনপি জোট) দিয়েছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করেছেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজেপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। এখানে আমার ভাইয়েরা অনেক বেশি কষ্ট করেছে। আমরা জেলে গিয়েছি, আন্দোলনে ছিলাম, ২০ দলে ছিলাম, চার দলে ছিলাম, অনেক আগে থেকে। আমরা চাই না—একটা প্রক্রিয়ায় সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক। সংবিধানকে ছুড়ে ফেলব কেন?
আন্দালিভ রহমান বলেন, সংবিধান কি মনে করায় দেয় ৭১-এর পরাজয়ের দলিল? আমি সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দেব? এই সংবিধানে এত গাত্রদাহ কেন? আমি তো পরিবর্তন করতে পারি, কেন ছুড়ে ফেলব।




