শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েজ্বালানি তেল সরবরাহ অনিশ্চয়তার প্রভাব মাঠপর্যায়ে

জ্বালানি তেল সরবরাহ অনিশ্চয়তার প্রভাব মাঠপর্যায়ে

জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে মাঠপর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় অনেক পাম্প বন্ধ থাকলেও, সেসব পাম্প ও খুচরা দোকানের সামনে তেল পাওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে চালক ও সাধারণ মানুষকে।মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে জামালপুর শহরের একাধিক পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকলেও অধিকাংশ পাম্পেই তেল নেই। তবুও হঠাৎ সরবরাহ আসতে পারে এই আশায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।
এদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকট থাকলেও স্থানীয় হাট-বাজারে অতিরিক্ত দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকরা। জরুরি কাজ ফেলে অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন, কিন্তু তেল পাচ্ছেন না।

জামালপুর জুই এন্টারপ্রাইজের সামনে তেল নিতে আসা বটতলা এলাকার কলেজ এক শিক্ষক বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সে জন্য গাড়িতে তেল নিতে বের হলেও কোথাও তেল না পেয়ে একটি বন্ধ দোকানের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। সবাই অপেক্ষা করছিল, আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম। শেষে না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে, বলেন তিনি।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ঈদ সামনে, কিন্তু মনে কোনো আনন্দ নেই। গাড়িতে তেল নেই। পাম্পে তেল নেই—এমন কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি। পাম্প বন্ধ থাকায় আমরা বুঝতেই পারছি না কোথায় তেল পাওয়া যাবে।

এক  বাইকার জানান, সকাল থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরে একটি পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হবে না। ১০০ টাকার তেল দিয়ে কী করব? তাই না নিয়েই ফিরে আসি, বলেন তিনি।

জামালপুর শহরের খাজা পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার জানান, ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আগামীকাল আমাদের গাড়ি ডিপোতে যাবে। তেল পেলে পরশু থেকে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, তেল না থাকলেও গ্রাহকের চাপ কমছে না। অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন, কিন্তু তাদের ফেরাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ