শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তাদের দুই মন্ত্রী তখন কেন পদত্যাগ করেনি, প্রশ্ন তারেক...

বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তাদের দুই মন্ত্রী তখন কেন পদত্যাগ করেনি, প্রশ্ন তারেক রহমানের

গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্বও আপনাদের

চার দলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তখন কেন পদত্যাগ করেনি—সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার ভাষ্যে, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে; বিএনপি তাদের বক্তব্য যে দুর্নীতিতে বলে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তাদেরও তো দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি?

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।

জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে। এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিজামী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল। এবং যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে!

সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সড়কপথে ময়মনসিংহ পৌঁছান বেলা সাড়ে ৩টায়। মঞ্চে তরেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। এ জনসভায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্বও আপনাদের

উত্তরার আজমপুর ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৬-১৭ বছরে আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট উত্তরার মানুষের অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে সেই অধিকার ফিরে পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। এখন সময় দেশ গড়ার।

গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষের জনসমুদ্রে তারেক রহমান উত্তরা এলাকার উন্নয়নে বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার যে ঐতিহাসিক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে, সেখানে উত্তরার মানুষের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। “ইনশাআল্লাহ উত্তরার মানুষের এই ভূমিকা আগামী দিনের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।”

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা বহু ত্যাগ, রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে এসেছে।

এই পরিবর্তনের ধারাকে ধরে রাখতে হলে দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপে জনগণের কোনো উপকার হয় না। বরং ঠান্ডা মাথায় বসে জনগণের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করাই সবচেয়ে জরুরি। উত্তরার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা গ্যাস ও পানির সংকট।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ