শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায় : প্রধান...

বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায় : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়। তখন সংবিধানও নির্বাক হয়ে যায়। আর এ কারণে   মানুষের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়। শনিবার (২২ নভেম্বর)  রাজধানীর  হোটেল সোনারগাঁওয়ে  ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, জুলাই বিপ্লব সংবিধানকে উৎখাত করতে নয়, বরং এর সঙ্গে সম্পর্ককে বিশুদ্ধ করতে উদ্দীপ্ত হয়েছিল। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, জনসাড়া, এ তিন গুণ জনমানসে প্রধান সুর হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশকে তার সাংবিধানিক জীবনের ব্যাকরণ পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। এই বিপ্লব রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আইনের শাসন কোনো আমলাতান্ত্রিক রীতিনীতি বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অলংকার নয়।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে সংকট ও অস্থিরতার সময় বিচার বিভাগকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিচার বিভাগের সংস্কার শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ন্যায় ও গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। বাংলাদেশ যখন পুনরায় রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিচার বিভাগকে নীতিগতভাবে স্থির থাকতে হবে, তবে বিশ্বের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার প্রতিও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে সংকট ও অস্থিরতার সময় বিচার বিভাগকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বিচার বিভাগের সংস্কার শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়–এটি রাষ্ট্রের ন্যায় ও গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের সংস্কার রোডম্যাপ আদালতের প্রশাসনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে একটি আধুনিক, নৈতিক ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন,  বাংলাদেশ যখন পুনরায় রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিচার বিভাগকে নীতিগতভাবে স্থির থাকতে হবে, তবে বিশ্বের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার প্রতিও আমাদের  সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধান বিচারপতি তার রোডম্যাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের সংস্কার রোডম্যাপটি আবির্ভূত হয়েছিল, সাংবিধানিক স্বাভাবিকতার জন্য জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে কাঠামো দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। বিচারিক সংস্কার রোডম্যাপ বিচারবিভাগকে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক দিশা দিয়েছে। দেশব্যাপী রোডশো, সেমিনার ও পরামর্শসভায় বিচারক, আইনজীবী ও আদালত কর্মচারীদের মধ্যে সংস্কারের প্রতি মালিকানাবোধ তৈরি হয়েছে।

আধুনিক বিচার বিভাগীয় সংস্কারের আলোচনায় মাসদার হোসেন মামলাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, সেই ঐতিহাসিক রায় বিচার বিভাগের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনকে চিহ্নিত করেছে এবং রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভের একটিতে পরিণত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পেশাদার কাঠামোর ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা এই বিচারব্যবস্থাকে সক্রিয় করতে চেয়েছি- সার্ভিস কাঠামোয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ক্যারিয়ার পথের স্বাভাবিকীকরণ এবং সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েট অর্ডিন্যান্স প্রণয়নের ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে। এগুলো শুধুই আমলাতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস নয়, এগুলো সাংবিধানিক পুনর্নির্মাণ; যার লক্ষ্য ভারসাম্য, স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় বড় দেশ ও শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকে প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে রোহিঙ্গা একটি বড় সমস্যা তবে এর সমাধান যথাসম্ভব পদক্ষেপ বাংলাদেশের নিতে হবে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিজিএস’র প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)  আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের আয়োজন করে। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ৮৫টি দেশের ২০০ জন আলোচক, ৩০০ জন ডেলিগেট এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী  যোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ