বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস আলম বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন। মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থিত তার অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টার ফলে তার পরিবারের শত শত কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। লন্ডনের ফাইন্যান্সিশায়ল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের দপ্তর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট (বিনিয়োগ বিতর্ক অবসানের জন্য আন্তর্জাতিক কেন্দ্র)-এ সোমবার এস আলম গ্রুপের আইনজীবী এ সালিশি মামলার আবেদন জমা দিয়েছেন।
মামলায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের টার্গেটে পরিণত হয়েছে এস আলম গ্রুপ। সরকার অবৈধভাবে এস আলম গ্রুপ ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিপ্রায়ে এসব কাজ করছে। আবেদনে আরও বলা হয়, এর ফলে এস আলম গ্রুপ ও পরিবারের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
ফাইন্যান্সিশায়ল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে এ ধরনের সালিশি মামলা বর্তমান ইউনূস সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর অর্থ পাচারের যে অভিযোগ করেছেন তার প্রতিক্রিয়ায় এস আলম বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগের সত্য কোনো প্রমাণ নেই। প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে।
এস আলম গ্রুপের আইনজীবী গত ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ সরকারকে এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ছয় মাস সময় দিয়েছিল। সেখানে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, বিরোধের অবসান না হলে তারা ন্যায়বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সালিশি কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হবেন।
এ মামলা পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ক স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল আর্কহার্ট অ্যান্ড সুলিভান। বিশ্বের বহু দেশে এ প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীরা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার এস আলম ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদ জব্দ করেছে। শুধু তাই নয়, সরকার তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অনুসন্ধান পরিচালনা করে সমন্বিতভাবে গণমাধ্যমে পরিবারটির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের এ হেন কার্যকলাপের জন্য প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি তো হয়েছেই, আর্থিক ক্ষতির অঙ্কও শত শত কোটি ডলারের বেশি। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ এস আলম কত ডলার দাবি করেছে, তা আইনজীবীরা জানাননি।
আন্তর্জাতিক সালিশি কর্তৃপক্ষ বরাবর এস আলমের অভিযোগ সম্পর্কে ফাইন্যান্সিশায়ল টাইমস বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতামত জানতে চায়। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আমরা এ বিষয়ে কাগজ-পত্র হাতে পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাব। পত্রিকারটির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ২০০৪ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এ সালিশ নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে এস আলম গ্রুপের ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে।




