দীর্ঘ ৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বুধবার সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, শেষ হবে বিকেল ৪টায়। এরপর গণনা ও ফল ঘোষণা। ভোট ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চাকসুর সপ্তম নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই নির্বাচনকে তাঁরা ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চার পুনরুজ্জীবন হিসেবে দেখছেন।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাঁচটি অনুষদে, ১৫টি হলের জন্য নির্ধারিত ১৫টি কেন্দ্রে। মোট ৬০টি কক্ষে ৬৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৪টি এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি দেখানো হচ্ছে ভোট গ্রহণ ও গণনা। ভোটগ্রহণ চলছে ব্যালট পেপারে। গণনা হবে ওএমআর মেশিনে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চাকসুর ২৬ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী। ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ৪৯৩ জন। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থী ৯০৮ জন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৪৭ জন। নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আটটি দল কাজ করছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে বলে জানিয়েছে র্যাব কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে রয়েছে পুলিশ সদস্য, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত আছে সেনাবাহিনী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী শহরে অবস্থান করেন। তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার সুবিধার্থে বাড়তি শাটল ট্রেন এবং বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সব ইউনিট প্রস্তুত আছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে আমরা প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে ভোট উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা আয়োজন করতে পারেনি।
সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ছয়বার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।




