ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ভেটগ্রহণ শুরু হয় যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। শিক্ষার্থীরা ভোর থেকেই কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ান, ফলে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে আসেন এবং ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় আটটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স খুলে সবাইকে দেখিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদের দুইটি বাক্স সিলগালা করে দেন। এ সময় তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন বাক্স সম্পূর্ণ ফাঁকা রেখে সিলগালা করা হয়েছে। এরমধ্যে বড় বাক্সটি কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ছোটটি হল সংসদের জন্য। ভোটগ্রহণ শেষে যখন ভোট গণনা হবে, তখন সবাইকে নিয়ে বাক্সটি খোলা হবে। সিনেট ভবন কেন্দ্রে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, বিজয় একাত্তর হল, স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৯১৫ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯৫৯ জন। ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। আর হল সংসদের ২৩৪টি আসনের জন্য লড়ছেন ১ হাজার ৩৫ জন। প্রতিটি হলে ১৩টি পদে ভোট হচ্ছে, ফলে একজন ভোটারকে দিতে হচ্ছে সর্বমোট ৪১টি ভোট।
ভোটারদের চাপ সামাল দিতে বুথ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। শুরুতে ৭১০ বুথ রাখা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৮১০ করা হয়। চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত না হন, সেটি মাথায় রেখেই বুথ সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষার্থীরা বলছিলেন, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় দিনটির জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। একজন শিক্ষার্থী বলেন, ডাকসু মানে আমাদের প্রতিনিধিত্ব, আমাদের কণ্ঠস্বর। তাই ভোটটা গুরুত্ব দিয়ে দিয়েছি।আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, ভোরে উঠে এসেছি ভোট দিতে। যাদের পাশে পেয়েছি, তাদেরই মূল্যায়ন করব।
পুরো নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে ২ হাজার ৯৬ জন পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি রয়েছে সোয়াট টিম, ডগ স্কোয়াড, বিশেষায়িত বাহিনী এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, ‘ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো ধরনের শঙ্কা নেই।




