বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক থেকে পরিত্রাণের কৌশল হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।
বিমান পরিবহন খাতে শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিয়েছে।
রোববার (২৭ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, বোয়িং কোম্পানি তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার নয়। আমরা তাদের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে ভারত, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়া ১০০টি করে উড়োজাহাজের অর্ডার দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বোয়িং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করবে, তাই এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমরা কী কী পণ্য কিনব, যেমন, এয়ারক্রাফট, তুলা, সয়াবিন, গম এসব বিষয় বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ডকুমেন্টগুলোতে উল্লেখ করেছি।
বাণিজ্যসচিব বলেন, মার্কিন প্রশাসন ইন্দোনেশিয়ার বিষয়ে জানিয়েছে, তাদের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক ধার্য করবে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে ২০ শতাংশ শুল্কের বিষয় উল্লেখ করে চুক্তি হতে পারে। আমরাও প্রত্যাশা করছি, ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ থেকে ২০ শতাংশের মতো শুল্ক নির্ধারণ করা হতে পারে বা এর চেয়ে কমও হতে পারে। আগামী ২৯ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল মিটিংয়ের জন্যই অপেক্ষা করছি। এই কয় দিনের মধ্যে সে রকম প্রস্তাব আসতে পারে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে আমাদের।
চলমান শুল্ক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ উচ্চমূল্যের পণ্য কেনার কৌশল নিচ্ছে। এই ‘স্ট্র্যাটেজিক ডিল’ শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মন জয়ে বিমান ক্রয় একটি কার্যকর ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো ‘বোয়িং কার্ড’ খেলে শুল্ক সমঝোতার পথে হাঁটছে বাংলাদেশও। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে মার্কিন বোয়িংয়ের নামও রয়েছে।




