শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......জোহরা তাজউদ্দিন : কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা

জোহরা তাজউদ্দিন : কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জোহরা তাজউদ্দীন আর নেই। শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহে…রাজিউন)। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত নভেম্বরে পড়ে গিয়ে জোহরা তাজউদ্দীন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিল্লির একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

সেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার হলে কিছুটা উন্নতি দেখা দিলে গত ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় এনে পুনরায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শ্বাসকষ্ট হলে তাকে ভেন্টিলেশন দিয়ে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। শুক্রবার সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জোহরা তাজউদ্দিনের ছেলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরলে রবিবার বনানী কবরস্থানে স্বামী তাজউদ্দিন আহমদের কবরেই শায়িত হবেন জোহরা তাজউদ্দিন।

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাজউদ্দীন আহমদের স্ত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের নেতারা জানান, গুলশানের আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা হচ্ছে। তারপর সেখানেই প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি টেবিল কালো কাপড়ে সাজিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নেতাকর্মীরাও জড়ো হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। পল্টন মোড় থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তার মৃত্যুর খবরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

হাসপাতালে জোহরা তাজউদ্দীনের স্মৃতি স্মরণ করে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে কেবল দলের নয় পুরো দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আর আমি একজন আপনজনকে হারালাম।

বিকালে আসরের পরে গুলশানের আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাজায় তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ফারুক খান, ফজলে নূর তাপসসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তোফায়েল আহমেদ এ সময় বলেন, বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কা-ারি ছিলেন জোহরা আপা। তিনি দেশ ও দলকে মনেপ্রাণে ভলবাসতেন। তার স্বপ্নই ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। তার মৃত্যুতে দেশ ও দলে অপূরণীয় এক শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

জোহরা তাজউদ্দীনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। বিরোধীদল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক জানিয়েছেন।

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ ও গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমির মা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যখন আওয়ামী লীগের চরম দুর্দিন চলছিল তখন তিনি আহ্বায়ক হিসেবে দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ