ইরানের রাজধানী তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়েহকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। খবর প্রেস টিভির
বুধবার ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সেপাহ নিউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরানে হামাস ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান ইসমাইল হানিয়াহের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি এবং তার এক দেহরক্ষী নিহত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরানে এক ইসরায়েলি হামলায় ইসমাইল হানিয়েহ নিহত হয়েছেন। আমাদের ভাই, নেতা, মুজাহিদ ইসমাইল হানিয়েহ, আন্দোলনের প্রধান তেহরানে তার সদর দফতরে ইহুদিবাদী আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হানিয়া তেহরানে গিয়েছিলেন। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তিনি বেশ কয়েকবার তেহরান সফর করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি কাতারের রাজধানী দোহায় বসবাস করতেন।
এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময় ঘটল যখন বাইডেন প্রশাসন হামাস ও ইসরায়েলকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সর্বশেষ আলোচনার জন্য সিআইএ পরিচালক বিল বার্নস ইসরায়েল, কাতার ও মিশরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে রোমে গেছেন।
বার্তা সংস্থার এপি এ ব্যাপারে জানতে একজন ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্রের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো জবাব দেননি। ইসরায়েল প্রায়ই তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর দ্বারা পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের কথা প্রকাশ্যে আনে না।
ইসরায়েল ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত অন্যদের লক্ষ্য করে বছরব্যাপী হত্যার অভিযান চালাচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২০২০ সালে একজন শীর্ষস্থানীয় ইরানি সামরিক পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে ইরানে একটি গাড়িতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত মেশিনগানের সাহায্যে হত্যা করা হয়েছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে; এরই মধ্যে ৩৯ হাজার ৩৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯০ হাজার ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।




