অবশেষে ভূমি জটিলতা নিরসন হল চট্টগ্রামের ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের অগ্রগতি হিসেবে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। চূড়ান্ত নকশাও ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছে গণপূর্ত বিভাগ। ফলে চট্টগ্রামে শিশু স্বাস্থ্য সেবার বহু কাক্সিক্ষত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের আর কোন বাধা থাকলো না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশেষায়িত এ হাসপাতাল বাস্তবায়নে সকল কর্মকাণ্ড দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে। এর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম শহরে ২০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগ। ফিজিক্যাল ফ্যাসিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট (পিএফডি) শীর্ষক অপারেশনাল প্ল্যানের আওতায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়।
এরমধ্যে ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর নগরীর বাকলিয়া মৌজায় মোট ২ একর জমি পছন্দ হওয়ায় তাতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নির্মাণ অধিশাখা। কিন্তু ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে গেলেই সৃষ্টি হয় জটিলতা। কেননা সরকারের অন্য প্রকল্পের আংশিক ভূমি থাকায় তাতে জমির পরিমাণ কম হওয়ায় এ জটিলতা দেখা দেয়। যদিও এ নিয়ে দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে চিঠি চালাচালিতে সুরাহা না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতিও থমকে যায়। চলতি বছরের জুন মাসেই শেষ হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদকালও।
অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় ভূমির চেয়ে প্রায় এক চতুর্থাংশ কম জমিতেই অন্য স্থাপনা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রধান হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয় জেলা সিভিল সার্জন। যার প্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগেও জমির পরিমাপ শেষে নকশা প্রণয়নের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরে চিঠি দেন। স্থাপত্য অধিদপ্তর তা চূড়ান্ত নকশা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ বলেন, ‘দেরিতে হলেও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের ভূমি জটিলতা এখন কেটেছে। সম্প্রতি হাসপাতালের নকশা চূড়ান্ত করে মহা-পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ায় সিভিল সার্জনকেও ভূমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ শুরু করা হবে। এখন থেকে শিশু হাসপাতালের প্রকল্প ঘিরে আর কোন জটিলতা থাকলো না।
অধিগ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘নকশা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অধিগ্রহণের জন্য টাকা আসেনি এখনো। চিঠি চালাচালি হচ্ছে। টাকা আসলেই বাকি কাজ শুরু হবে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করতে কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকায় বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালসহ একাধিক বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকলেও দেশের দ্বিতীয় রাজধানী বন্দরনগরীতে এখন পর্যন্ত গড়েই ওঠেনি কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র। যার কারণে এ অঞ্চলের মানুষদের চিকিৎসা সেবার জন্য নির্ভর থাকতে হয় একমাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওপর। তাতে করে হাসপাতালটিতেও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চাপ পড়ে। এতে করে রোগীরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। তবে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু হলে সেবাদান আরও সহজ হয়ে ওঠবে।




