শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......টোল বেশি হলে বঙ্গবন্ধু টানেল ব্যবহারে মানুষ নিরুৎসাহিত হবে

টোল বেশি হলে বঙ্গবন্ধু টানেল ব্যবহারে মানুষ নিরুৎসাহিত হবে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের টোল কত হবে–এ নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে, টানেলের টোল সহনীয় পর্যায়ে রাখা না হলে সাধারণ মানুষ টানেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তবে প্রকল্প পরিচালক জানান, শাহ আমানত সেতুর সঙ্গে সমন্বয় করেই কর্ণফুলী টানেলের টোল নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। অক্টোবরের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের একাংশ খুলে দেয়ার কথা রয়েছে। সেই সঙ্গে ডিসেম্বরে পুরোপুরি চালু হবে। তবে টানেলের টোল হার নির্ধারণ নিয়ে জটিলতায় পড়েছে সেতু বিভাগ।

কর্ণফুলী নদী পারাপারে ২০১০ সালে চালু হওয়া শাহ আমানত সেতুর নির্মাণ ব্যয় কম হওয়ায় টোল হারও অনেক কম। শাহ আমানত সেতুতে একটি ১০ চাকার পরিবহনের টোল ৭৫০ টাকা আর বাসের টোল ১৫৫ টাকা। তা ছাড়া ৩১ সিটের কম মিনিবাসের টোল ৫০ টাকা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
সেই সঙ্গে নদীর তলদেশে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র টানেল হওয়ায় টোল নির্ধারণের নেই কোনো উদাহরণও। তবে কর্ণফুলী টানেলের টোল সহনীয় পর্যায়ে রাখা না হলে সাধারণ মানুষ টানেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
 
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, যদি টোল সহনীয় পর্যায়ে রাখতে না পারা যায়, তাহলে মানুষ টানেল ব্যবহার করবে না। তখন এর অর্থ ফেরত আসা কিন্তু কঠিন হবে।
শাহ আমানত সেতুর টোল হার
১. ট্রেলার: ৭৫০ টাকা
২. বড় ট্রাক:  ৩০০ টাকা
৩. মাঝারি ট্রাক: ২০০ টাকা
৪. মিনি ট্রাক: ১৩০ টাকা
৫. বড় বাস: ১৫৫ টাকা
৬. মিনি বাস: ৫০ টাকা
৭. কৃষি কাজে ব্যবহৃত যান: ১৩৫ টাকা
৮. মাইক্রোবাস:  ১০০ টাকা
৯. প্রাইভেটকার: ৭৫
১০. ৩ চাকার মোটরযান/সিএনজিচালিত অটোরিকশা/টেম্পো : ৩০ টাকা
১১. মোটর সাইকেল : ১০ টাকা
১২. রিকশা ভ্যান: ১০ টাকা
 
টানেলের মাধ্যমে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে সময় ও দূরত্ব অনেকটাই কমে আসবে। তবে, টানেলের টোল কোনোভাবেই পদ্মা সেতুর আদলে করা যাবে না। কারণ, পদ্মা সেতুর কোনো বিকল্প না থাকলেও কক্সবাজার যাতায়াতে টানেলের বিকল্প শাহ আমানত সেতু। তাই অতিরিক্ত টোল নির্ধারণ না করার আহ্বান ব্যবসায়ী নেতাদের।
 
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিটি দেশের প্রতিটি জায়গায় টোল দিতে হয়। কিন্তু তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। বেশি টোল রাখলে মানুষ এই টানেল দিয়ে কিন্তু যাতায়াত করবে না।
 
শাহ আমানত সেতুর সঙ্গে সমন্বয় করেই কর্ণফুলী টানেলের টোল নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করছে সেতু কর্তৃপক্ষ বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, টোল নির্ধারণ বিবিএ-র দায়িত্ব। আমাদের কর্ণফুলী ব্রিজে যে পরিমাণ টোল আছে তার সঙ্গে সমন্বয় করে টানেলের টোল নির্ধারণে চিন্তাভাবনা চলছে। টানেল চালু হলে প্রতিদিন সতেরো হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করবে।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ