বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়খেলাপিদের বড় সুযোগ দিল কেন্দ্রিয় ব্যাংক

খেলাপিদের বড় সুযোগ দিল কেন্দ্রিয় ব্যাংক

এখন থেকে কোন ঋণখেলাপী নিয়মিত ঋণগ্রহিতা হতে চাইলে ঋনের মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দিলেই হবে। তাছাড়া এই ঋণ পরিশোধে দুই বছরের পরিবর্তে পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত সময় পাবে তারা। ঋণখেলাপীদের এমন অভাবনীয় সুযোগ দিয়ে সোমবার (১৮ জুলাই) নতুন এই নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যোগদানের মাত্র চার কার্যদিবসে খেলাপিদের পক্ষে এমন নীতিমালা জারি করায় নতুন গভর্নরের মাঝে বিদায়ী গভর্নরের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই।

জানা গেছে, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রেণিকৃত ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার যুক্তি দেখিয়ে এই নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক। এর ফলে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে এখন আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দিলেই চলবে। এক্ষেত্রে পূর্বে ঋণ নিয়মিতকরণে ন্যূনতম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হতো। আবার এই ঋণ পরিশোধে বর্তমানে পাঁচ থেকে আট বছর সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলেও আগে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় দেওয়া হতো। এছাড়া নীতিমালায় খেলাপি ঋণে কী সুবিধা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের পুরো ক্ষমতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে দেয়া হয়েছে। আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নিয়মিত করতে স্বয়ং গভর্নরের অনুমোদন লাগতো। ফলে এই দায়িত্ব পুরোটাই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের হাতে তুলে দিয়েছেন নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃ তফসিল করতে বিভিন্ন তদবির আসত। এ কারণে নতুন গভর্নর সেই সুবিধা দেওয়ার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোকে দিয়েছেন। পাশাপাশি করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতিতে পড়া অর্থনীতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ঋণ পুনঃ তফসিলে ছাড় দিয়েছেন। না হলে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপি হয়ে পুরো আর্থিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। তবে খেলাপি ঋণে সুবিধা প্রদানের ক্ষমতা ব্যাংকমালিকদের হাতে তুলে দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু এটাও জানিয়েছে, জাল জালিয়াতি ও অনিয়ম-প্রতারণার ঋণ নতুন নীতিমালার আওতায় নিয়মিত করা যাবে না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, কোভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ও বহির্বিশ্বে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা চলছে। সে জন্য নতুনভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রেণিকৃত ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ঋণ পুনঃ তফসিলকরণ–সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, করোনার কারণে দেওয়া ছাড় উঠে যাওয়ার পর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। নতুন করে অনেক ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি করোনায় অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে যে এক লাখ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তারও বড় একটা অংশ অনাদায়ি হয়ে পড়েছে। এ কারণে এখন ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ