শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়দুই নেত্রী চাইলেই ‘জাদুর কাঠির’ ছোঁয়ায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল হতে পারে

দুই নেত্রী চাইলেই ‘জাদুর কাঠির’ ছোঁয়ায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল হতে পারে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

আর কোনো আশা দেখতে পাচ্ছেন না দেশের মানুষ৷ তারা মনে করেন, দুই প্রধান রাজনৈতিক দল দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে৷ তবুও হাল ছাড়তে চান না তারা৷ দুই নেত্রী চাইলে ‘জাদুর কাঠির’ ছোঁয়ায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল হতে পারে৷

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের আলাদা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উভয়ই সংকট নিরসনে আলোচনার কথা বলেছেন৷ যা দেশের সুশীল সমাজকে চমক দিলেও আশান্বিত করেনি৷ কারণ, দুই নেত্রীই তাদের মূল অবস্থানে অনড় আছেন৷

প্রধানমন্ত্রী চান, তার সরকারের অধীনে নির্বাচন৷ আর বিরোধী দলীয় নেত্রী চান নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার৷ তাই ‘ঈদের দিনের ভালো কথায়’ আস্থা নেই টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের৷ তিনি বলেন, দুই নেত্রী যদি সত্যিকার ভাবেই আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন চান তাহলে তাদের অবস্থান আরো সমঝোতামূলক হতে হবে৷ নয়ত এসব কথা কথাই থেকে যাবে৷

তিনি বলেন, “এখন রাজনৈতিক সংকট যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তাতে সুরঙ্গের শেষ প্রান্তেও কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না৷ দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ দুই দলই গণতন্ত্রের ভাষা ছেড়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে৷ ২৫ অক্টোবর কি হবে, তা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই জানে৷ তাদের মধ্যে কোনো ভয় না থাকলেও সাধারণ মানুষ ভীত হয়ে পড়েছে৷”

ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, এখন আর সময় নেই৷ তার কথায়, ‘জাদুর কাঠি’ আছে দুই নেত্রীর হাতে৷ তারা যদি সত্যিকার অর্থেই দেশের মানুষের কল্যাণ চান, তাহলে তারাই একমাত্র পারেন স্বস্তির পথ বের করতে৷ অন্য কোনো পথ নেই৷ তবে তিনি এটাও মনে করেন যে, ক্ষমতার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত সংঘাতে গেলে আখেরে দুই নেত্রীকেই সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হবে৷ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে তারাই হবেন এর প্রথম শিকার৷

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, এখন দুই বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা দখলে শেষ লড়াই শুরু হবে৷ আর এই লড়াইয়ে তারা নিজেদের স্বার্থেই একসময় সমঝোতায় আসবে৷ তবে তা দেশের সাধারণ মানুষের কতটা ক্ষতির পর, সেটাই দেখার বিষয়৷ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার পর এবার বিএনপি দা-কুড়ালের যুদ্ধে নামার কথা বলছে৷ শক্তি পরীক্ষায় যারা এগিয়ে থাকবে রাজনীতির ফল তাদের দিকেই যাবে৷ কিন্তু প্রাণ যাবে সাধারণের৷ শান্তনু মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে রাজনীতির এই নাবালক চরিত্র কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না৷

তবুও তিনি দুই নেত্রীকে ধন্যবাদ জানান এই কারণে যে, ঈদের দিনে হলেও তারা আলোচনার কথা বলেছেন৷ একদিনের জন্য হলেও দেশের মানুষ ভালো কথা শুনলো৷ তবে এই ভালো কথা সত্যিই ভালো হবে, যদি বাস্তবে এর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়৷ আর সরকারেরই প্রথম দায়িত্ব আলোচনার উদ্যোগ নেয়া৷

আরও পড়ুন

সর্বশেষ