শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদইন্টারভিউবান কি মুন ও মনমোহনের সঙ্গে বৈঠক আজ : চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির...

বান কি মুন ও মনমোহনের সঙ্গে বৈঠক আজ : চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উঠবে বলে কূটনীতিক মহলের ধারণা

সাদ আল আলম (বিডিসময়২৪ডটকম)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উঠবে বলে কূটনীতিক মহলের ধারণা। বিশেষ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন ইস্যুই গুরুত্ব পাবে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান মেনে চলার কথা বলা হবে। সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেবেন।
২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন। তাই ভিন্ন আবহে আজ এই বৈঠকগুলো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সময় ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১টায় (বাংলাদেশ সময় ২৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১১টায়) নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক করার কথা রয়েছে। বৈঠকের জন্য প্রাথমিকভাবে সময় বরাদ্দ রয়েছে আধা ঘণ্টা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে শেখ হাসিনা গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক গেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও ওই অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে আছেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠক হওয়ার কথা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আজকের বৈঠকের প্রতীক্ষায় আছেন। গত বুধবার নয়াদিলি্ল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে এক বিবৃতিতে তিনি ওই প্রতীক্ষার কথা জানান। মনমোহন সিং তাঁর বিবৃতিতে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে। আলোচ্যসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন এবং তিস্তার পানিবণ্টনের মতো ঝুলে থাকা বিষয়গুলো। বাংলাদেশ বরাবরই ওই ইস্যুগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা জানিয়ে আসছে।
সূত্র আরো জানায়, সীমান্তে হত্যা বিশেষ করে ফেলানী খাতুন হত্যার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি ফেলানী হত্যার বিচারে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণার পর বাংলাদেশ ও ভারত- উভয় দেশেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিচারের রায় ঘোষণার এক সপ্তাহ পর বিএসএফ কর্তৃপক্ষ পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে উভয় দেশের পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ও এর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সময় ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২০ মিনিট) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকের জন্য প্রাথমিকভাবে সময় বরাদ্দ আছে ১৫ মিনিট। জাতিসংঘ মহাসচিব গত মাসে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন। তাই এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাংলাদেশও নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, সংবিধান অনুসরণ করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার এই দায়িত্ব পালন করার কথাই বলবে। সরকার আলোচনার জন্য বরাবরই প্রস্তুত আছে- এ বিষয়টিও জোর দিয়ে বলা হতে পারে। এ ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠকে বিশ্ব সংস্থা ও বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশের অবদানের গুরুত্ব স্থান পেতে পারে। এ ছাড়া মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ উদার এই দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার গুরুত্বও আলোচিত হতে পারে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার যেসব সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সফল হয়েছে সে প্রসঙ্গ তুলে ধরা হবে বৈঠকে। জাতিসংঘ মহাসচিবকে বলা হবে, এবার বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে সাফল্য পেতে চায় বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান হলো, ফল যাই হোক সরকার তা মেনে নেবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে এখনো দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্য না হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব উদ্বিগ্ন। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে উৎসাহিত করতে ও নির্বাচনী প্রস্তুতি দেখতে জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত হিসেবে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো এরই মধ্যে দুই দফা ঢাকা সফর করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জাতিসংঘ বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে কোনো ফর্মুলা দিতে পারে না। সদস্য দেশ না চাইলে বা জাতিসংঘে এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাস না হলে ফর্মুলা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার বিশ্ব সংস্থার নেই।
অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি সই : নিউ ইয়র্ক থেকে অমিতোষ পাল জানান, বিশ্বব্যাপী অবৈধ ও অবাধ অস্ত্রবাণিজ্য বন্ধ ও মারণাস্ত্র ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮৩তম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে এই চুক্তি সই করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশকেও এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে আহ্বান জানান। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে তিনি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক এক সেমিনারে অংশ নেন। ওই সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের আবাসিক প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেনসহ বাংলাদেশ থেকে আসা কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
‘জিএসপি স্থগিত রাখা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী’ : বাংলাদেশি পণ্যের জন্য জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বোঝানোর জন্য দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্সের নামে জিএসপি স্থগিত সমর্থনযোগ্য নয়। কিছু দুর্ঘটনার কারণে জিএসপি স্থগিতও সমর্থনযোগ্য নয়। শিল্প ক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য স্থানে এমনকি উন্নত বিশ্বেও অনবরত ঘটে থাকে। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার তাঁর হোটেল স্যুটে যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপের এক বৈঠকে বলেন, জিএসপি স্থগিত রাখার ফলে তা কমপ্লায়েন্স এবং শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পরিবর্তে শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল জানায়, তারা জিএসপিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। কারণ তারা মনে করে, নীতিগত দিক থেকে জিএসপি বাতিল সঠিক হয়নি। শিগগিরই জিএসপি বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের আশা প্রকাশ করে চেম্বার নেতৃবৃন্দ বলেন, তাঁরা এরই মধ্যে মার্কিন সরকারকে তাঁদের মতামতের কথা জানিয়েছেন।
ইকবাল সোবহান জানান, বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এগিয়ে নিতে সরকারি ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বৈঠকে উপস্থিত বোয়িংয়ের প্রতিনিধির কাছে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুটি বোয়িং৭৭৭ বাংলাদেশে সরবরাহের চুক্তি হয়েছিল। ২০১৪ সালের মধ্যে তা সরবরাহ করার কথা থাকলেও চলতি বছরের মধ্যেই সরবরাহ করার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বোয়িং সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে।
জামায়াতের বিক্ষোভ : এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান করা হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের সামনে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং তাদের মুক্তির দাবি জানায়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ