শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদখেলার সময়বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ফোরামের অভিযোগ

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ফোরামের অভিযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসি) ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন ঘোষণা করেছে। অথচ এবারকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ প্রকাশিত হয়ে পড়ছে। দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের জন্য জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ করেছে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক সংস্থা ( ফোরাম)। শুক্রবার ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরাম মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু বলেন, বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম মানা হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ব্যবহার করে এ্যাডহক কমিটি তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে কাউন্সিলর করেছে। তিনি আরো বলেন,গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের ৪৫ দিন আগে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি দিতে হয়। কিন্তু বিসিবি মাত্র আট দিনের সময় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। কোথাও নিজস্ব কর্মীর মাধ্যমে, কোথাও অ্যাম্বুলেন্স যোগে, কোথাও বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ফর্ম পাঠানো হয়েছে। এই আট দিনের মধ্যে দুদিন ছিল হরতাল এবং দুদিন সরকারি ছুটি। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অতীতে বাংলাদেশের কোন ফেডারেশনেই হয়নি। কমপক্ষে ২১ দিন সময় দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। বিসিবির ১৯৯৮,২০০০ এবং ২০০৪ সালের নির্বাচনেও ২৮ দিন সময় দেয়া হয়েছিলো। বিভিন্ন জেলায় কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য ফর্ম বিতরণ না করারও অভিযোগ করেন ফোরাম মহাসচিব।যদিও বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব জেলা, বিভাগ, ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল বিসিবি। প্রত্যেকেই চিঠি পেয়েছেন। ১৭৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৭২টির মনোনয়ন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশন ১০ অক্টোবর নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। শুক্রবার হওয়ায় অনেকের পক্ষেই কাউন্সিলর লিস্ট দেথাও সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। রোববার কাউন্সিলর তালিকার ওপরে আপত্তি ও শুনানি হবে। পরদিন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। আশিকুর রহমানের জেলা নড়াইলসহ ১৩টি ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফোরাম। তাদের অভিযোগ, কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষেত্রে ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কাউন্সিলর ফর্মও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিলো। চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি ফর্ম নিয়ে গিয়েছিলেন বিসিবির এ্যাডহক কমিটির সদস্য আ জ ম নাসির । ফোরামের বেশিরভাগ সদস্যের অভিমত, সরকারী হস্তক্ষেপ হচ্ছে এবারকার বিসিবির নির্বাচনে। এ্যডহক কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কারণে সংবিধান সংশোধেন মতো ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি দেশের ক্রিকেটের জন্য ভয়াবহ। ক্লাব কেনার সংস্কৃতি এবার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান ফোরামের নেতারা। এবার বিসিবির নির্বাচন অতীতের যে কোন নির্বাচনের চেয়েও ন্যাক্কারজনক বললেন  ফোরামের নেতারা।  তারা বলেন, এক সময় শেখ জামালের প্রেসিডেন্ট মেজর (অব:) মঞ্জুর কাদের জেলা নেতাদেরকে গালাগাল দিতেন অথচ এবার তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সন্ধ্যায় সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন ফোরাম সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু। নির্বাচন বর্জন বা মামলা করার মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ফোরামের নেতারা। কারণ তাদের অভিমত, ক্রটিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের কোন ধরা বাঁধা নেই। সংবাদ সন্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরাম সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু,মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু ,কুতুবউদ্দিন আকছির , সরদার সেলিম আহমেদ ও মর্তুজা রশিদী দারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ