ছাত্রজীবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে (মাস্টার্সে) তিনি ভর্তি হয়েছিলেন। বাংলা বিভাগের ছাত্রী ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই বিভাগে পড়াকালীনই তিনি জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, ড. রফিকুল ইসলামদের মতো বরেণ্য শিক্ষকদের পেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সেই কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেনও।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের হলের একটি ভবন উদ্বোধন করতে ক্যাম্পাসে যান প্রধানমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্মৃতিকাতর ছিলেন রোকেয়া হলের প্রাক্তণ এই ছাত্রী। পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় সেই কথা বলার পাশাপাশি নিজের এক ‘দুঃখের’ স্মৃতিচারণাও করেন শেখ হাসিনা। কী সেই আক্ষেপ, দুঃখ, যা সবসময়ই প্রধানমন্ত্রীর মনে থাকে?
আজ সকালে বেগম রোকেয়া হলে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে সেখানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে ‘৭ মার্চ ভবন’ নামে হলের নতুন একটি ভবন উদ্বোধন করেন তিনি। বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, নিজের শিক্ষাজীবন ও তার স্মৃতি, ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের প্রসঙ্গও উঠে আসে। উঠে আসে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে তাঁকে বহিষ্কার করেছিল সেই প্রসঙ্গও।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের হত্যা করা হয়, তখন তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন। শেখ হাসিনা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন। স্বামী পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ আলীর বৃত্তির সুবাদে শেখ হাসিনা তাঁর সঙ্গে ১ আগস্ট জার্মানিতে চলে যান। সঙ্গে নিয়ে যান ছোটবোন শেখ রেহানাকে। আর এর ফলেই দুই বোন ঘাতকের বুলেট থেকে বেঁচে যান। এরপর বিরূপ পরিস্থিতির মুখে ছয় বছর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন। ফলে পড়ালেখায়ও ছেদ পড়ে।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোকেয়া হলের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘একটা দুঃখ আছে মনে, দুঃখটা সেটাই, আমার বাবাও তাঁর পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর আমার ভাগ্যে জুটেছিল এটা যে, আমি যখন ১৯৭৫ সালে জার্মানিতে চলে যাই, (হত্যাকাণ্ডের) মাত্র ১৫ দিন আগে আমি দেশ ছেড়েছিলাম। এরপর আর ছয় বছর দেশে ফিরে আসতে পারি নাই। আমি মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু তা আর সমাপ্ত করতে পারি নাই। আমার সেই শিক্ষা অধরাই থেকে গেল। এই দুঃখটা আমার মনে সবসময় আছে, থাকবে।




