সাগরে অবস্থানরত লঘুচাপের ফলে রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, ২ নম্বর গেট, হালিশহরসহ প্রায় এলাকা মধ্যরাতে পানিতে তলিয়ে ছিল। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপটি মৌসুমি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় তার প্রভাবে চট্টগ্রাম জুড়ে বিরামহীনভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিম্নচাপটি রোববার ভোর রাতে সীতাকুন্ড উপকূল দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তবে সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে।
পূর্বাভাস কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৯ দশমিক ৮ মিলিলিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। ১০ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৪৮ ও রাত ১২টা থেকে ১১ জুন সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬০ মিলিলিটার বৃষ্টি হয়েছে। সোমবারও সারাদিন ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রোববারের ভারী বৃষ্টিপাতে নগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির চাপ আরও বেড়ে যাওয়ায় নগরের নিম্নাঞ্চল হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঈদের বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের। বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়। নগরের চকবাজার কাঁচা বাজারের দোকানি জসিম উদ্দিন জানান, ভারী বর্ষণে পুরো চকবাজার এলাকা ডুবে যায়। সন্ধ্যার দিকে হাঁটু সমান পানি হলেও রাত ৮টার পর কোমর পরিমাণ পানি জমে যায়।
বিরামহীন বৃষ্টিতে বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকায় বেশিরভাগ বাসার নিচ তলা তলিয়ে যায়। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদেরকে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বাদুরতলা এলাকার গৃহিনী রুনা আকতার বলেন, নিচ তলার খাট পর্যন্ত পানি ওঠে গেছে। কাপড়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আলমারির উপরে রাখতে হয়েছে। রাতভর বসে ছিলাম, ঘুমাতে পারিনি।




