শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিননিজের সংসার, স্বামী-সন্তান বাঁচাতে হাসেমকে খুন করেছেন জিফু

নিজের সংসার, স্বামী-সন্তান বাঁচাতে হাসেমকে খুন করেছেন জিফু

জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে প্রথমে অজ্ঞান করা হয় যুবলীগের নেতা আবুল হাসেম ওরফে বাচাকে। পরে কাপড়-চোপড় তার ঘুমন্ত শরীরের ওপর রেখে গ্যাস লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন জিফু বেগম (৩৮)। হত্যাকাণ্ডটি একাই করেছেন বলেও দাবি তার। নিজের সংসার, স্বামী-সন্তান ‘বাঁচাতে’ আবুল হাসেম প্রকাশ বাচাকে খুন করেছেন বলে পুলিশকে জানান জিফু। ৬ মে দুপুরে আবুল হাসেম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হালিশহরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা। ৪ মে সকালে নিজবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবুল হাসেমের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ।

এ ঘটনার দু’দিন পর পুলিশ রহস্য উদঘাটন করে। আটক করে আবুল হাসেমের চাচি শাশুড়ি (শ্বশুর বাড়ির প্রতিবেশী) জিফু বেগমকে। তার তথ্যে পুলিশ পোমরা খাঁ মসজিদের পুকুর থেকে উদ্ধার করে আবুল হাসেমের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব।

নূরে আলম মিনা বলেন, তিন বছর আগে একটি সালিস মীমাংসার বিষয়ে আবুল হাসেমের সঙ্গে পরিচয় জিফু বেগমের। পরে জিফুকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দেয় হাসেম। তখন জিফুর কাছ থেকে চেক এবং খালি স্ট্যাম্পে কৌশলে সই নেন হাসেম। পরে যা ব্যবহার করে জিফু বেগমকে ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে।

তিনি বলেন, এক মাস আগে জিফু বেগমকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন হাসেম। জিফু এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন হাসেম এবং জিফুর কিছু ভিডিও ও ছবি তার পরিবার ও মানুষকে দেখাবেন বলছিল। হাসেমের কাছ থেকে বাঁচতে তাকে ‘সরিয়ে দেওয়ার’ সুযোগ খুঁজে জিফু। শুক্রবার হাসেমের পরিবার বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে এবং হাসেমের ব্যবহৃত মোবাইল ও ট্যাব নিয়ে চলে যায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পু্লিশ সুপার (সদর) রেজাউল মাসুদ, অতিরিক্ত পু্লিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা, অতিরিক্ত পু্লিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পু্লিশ সুপার (বিশেষ শাথা) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ