বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। তবে জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত নয়। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ১৪ এপ্রিল মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাঁচ সদস্যের এক মুসলিম পরিবার সকালে রাখাইনের তানজিপিওলেটওয়া অভ্যর্থনা কেন্দ্রে এসেছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ফিরিয়ে নিয়েছে। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের চাল, মশারি, কম্বল, গেঞ্জি, লুঙ্গি সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রত্যাবাসনের জন্য যাচাই-বাছাই শেষে ওই পরিবারকে মিয়ানমারে প্রবেশের আগেই ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে আরও জানানো হয়। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার চলমান প্রক্রিয়ায় তাদের নিবন্ধনের অংশ হিসেবে এনভিসি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার। তবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতারা এই কার্ডকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আজীবন শরণার্থী করে রাখার পাঁয়তারা বলে জানিয়েছেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা-বিরোধী দমন-পীড়ন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এ অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পথে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ মতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে গত বছরের ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে দুই দেশের মধ্যে সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। ওই সম্মতিপত্র স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার কথা ছিলো।




