বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের নামে সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াওয়ের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, তা থেকে উত্তরণ কঠিন ছিল। কিন্তু পুলিশ সেই কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে পেরেছে।জননিরাপত্তায় সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দল কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষ পুড়িয়ে মারতে পারে না। মানুষ পুড়িয়ে মারা কোন ধরনের রাজনীতি, তা আমি জানি না। আমি ৫০ বছর ধরে রাজনীতি করি। এই রাজনীতি কখনও গ্রহণযোগ্য না। আমরা রাস্তা করি, তারা রাস্তা কেটে দেয়। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কেটে দেয়। তারা সিএনজি চালককে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারে। তারা পুলিশকেও মারধর করে, যা কখনও গ্রহণযোগ্য না। তাই এ ধরনের কাজে যারা সম্পৃক্ত থাকবে তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ এর কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে রাখা বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জঙ্গি দমনে উন্নত দেশগুলো হিমশিম খেলেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে জঙ্গি দমন করছে। ভবিষ্যতেও সবার গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান করতে হবে। সফলতা আসবেই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক কাজ করে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য পায়। তবে তথ্য পেয়েই একা কাজ করা যায় না। তাই তথ্য আদান-প্রদান করে কাজ করলে ক্যাজুয়ালটি (ক্ষয়ক্ষতি) কম হয়। তিনি আরও বলেন, কোনও তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের জানানো উচিত। তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়।
গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনার উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশান হামলার দিন রোজার সময় ছিল। ওই দিন ভোরে সবাইকে নিয়ে আমরা বৈঠক করেছিলাম। পরে বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করে অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ফলে সফলতার সঙ্গে ওই অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছিল। অভিযানটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। তাই কোনও তথ্য পেলেই দ্রুত সংশ্লিষ্টদের জানানো উচিত।
কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে তথ্য পাওয়ার পর ক্রেডিট নিতে যান। অবশেষে তাদের জীবন দিতে হয়। তাই নিজে ক্রেডিট না নিয়ে কাজের ঝুঁকির বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। যেখানে জীবন-মরণের প্রশ্ন, সেখানে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে জঙ্গি দমনের পাশাপাশি মাদক দমনেও পুলিশ বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। মাদকের ছোবলে মেধাবী ছাত্ররা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে পরিবারের ওপর। মাদকের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। আমি জানি, পুলিশের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকির। তারপরও আপনার ঝুঁকি নিচ্ছেন, দেশকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য সব পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।




