সংবিধানের ৯৫ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এক লখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান। ওই সময় আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, জানতে পেরেছি শিগগিরই হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে মেধাসম্পন্ন বিচারিক সক্ষমতা, সৎ ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দেশের আদালতের বিচারক হিসেবে নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। সরকার সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগ দিচ্ছে না।
সুপ্রিম আইনজীবী সমিতির এই নেতা বলেন, বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি আইনজীবী সমিতি দীর্ঘদিন করে আসছে। তাই বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করতে হলে বিচারক নীতিমালা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। সরকার চাইলে সাতদিনের মধ্যে নীতিমালা তৈরি করতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সভায় হাইকোর্টের রায় ও নীতিমালার আলোকে বিচারপতি নিয়োগের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার বদল হলেও বিচারপতি নিয়োগে কোনো নীতিমালা হয় না। যেকোনো সরকারই দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি থাকলে আবেদন করতে পারে না। অথচ উচ্চ আদালতে অনেক বিচারকের যোগ্যতাই তৃতীয় শ্রেণির।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অনেক বিচারপতিকে দেখা যায়, মোকদ্দমার রেফারেন্স শুনতে চান না। শোনার মতো ওনাদের সময় নেই। ড. কামাল হোসেন বা রোকনউদ্দিন মাহমুদসহ অনেক সিনিয়র আইনজীবী যখন শুনানি করেন, তখন অনেক বিচারপতি তাঁর মর্মার্থ বুঝতেই পারেন না। তাই আমাদের দাবি, আওয়ামী লীগ দলীয় লোক নিয়োগ দেন, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু মেধাবী, সূক্ষ্ম বিচারশক্তি, সৎ লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করুন এবং একটি নীতিমালা তৈরি করুন।




