বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় ১১ জনকে ২০ বছর করে দণ্ড

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় ১১ জনকে ২০ বছর করে দণ্ড

১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলা চালিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ১১ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৪০ হাজার টকো করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর করে কারাদণ্ড পেয়েছেন তারা। ১২ আসামির মধ্যে বাকি একজন খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশীদ, মো. মিজানুর রহমান, মো. শাজাহান বালু, গাজী ঈমাম হোসেন, জর্জ মিয়া, গোলাম সারোয়ার মামুন, মো. সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল, গোলাম সারোয়ার মামুন, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ, মো. হুমায়ুন কবির হুমায়ুন ও খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল। অপর আসামি হুমাউন কবির ওরফে কবির খালাস পেয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে গোলাম সারোয়ার মামুন, জর্জ মিয়া, মো. সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল ও সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। তাদেরকে রায় শোনাতে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা চার আসামি গাজী ঈমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, মো. মিজানুর রহমান ও মো. শাজাহান বালুও আদালতে হাজির ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত এ আটজনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশীদ, জাফর আহম্মদ মানিক ও মো. হুমায়ুন কবির হুমায়ুন পলাতক। খালাস পাওয়া হুমাউন কবির ওরফে কবির জামিনে ছিলেন।

২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে স্থাপিত ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবিরের অস্থায়ী আদালত ফ্রিডম পার্টির গ্রেনেড/বোমা হামলা মামলার এ রায় দেন। গত ১৫ অক্টোবর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ২৯ অক্টোবর ধার্য করা হয়। একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলাটির রায়ও রোববার নিজ এজলাসে বসে দেবেন একই আদালত। গত ১৬ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলাটির রায়ের দিনও ২৯ অক্টোবর ধার্য হয়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর আলোচিত মামলা দু’টির রায় দিচ্ছেন আদালত।

১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর এ হামলা চালায় ফ্রিডম পার্টির ১০/১২ জনের একটি দল। এ সময় শেখ হাসিনা বাড়ির ভেতর অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম হত্যা প্রচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১৬ জনকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে দু’জন মারা যাওয়ায় তাদের নাম পরে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে দুইটার মধ্যে ১০/১২ জনের একটি দল ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা করেন। তারা এ সময় গুলি চালিয়ে ও বোমা ফাটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করেন তারা। হামলাকারীরা ‘কর্নেল ফারুক-রশীদ জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিয়ে স্থানত্যাগ করেন। ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনের দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরু হয়। এর আগে গত ২০ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা উদ্ধার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অন্য দুই মামলায় দশজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৩ জনকে ১৪ বছর করে ও ৯ আসামিকে ২০ বছর করে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ