আন্তর্জাতিক চাপ না দিলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করবে না মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবসন নিশ্চিত না করে তাদের জোর করে মিয়ানমার পাঠানো যাবে না। আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। চাপ বাড়ছে। ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও পর্যালোচনা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকারের মধ্য বিভাজন হচ্ছে। সু চি এক কথা বলেন, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রচার আর এক কথা বলে। এ সংকট মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে। এখন এটি আঞ্চলিক সমস্যয় পরিণত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। মিয়ানমার সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে যাচ্ছে। ১৯৮২ সালে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এ সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস এখনও বহাল। ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৮৪ গ্রাম পোড়ানো হয়েছে। ৫ লাখের অধিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখে।
মাহমুদ আলী আরও বলেন, কার্যত মিয়ানমারে ৪/৫ লাখ রোহিঙ্গা দেশটিতে রয়েছে। মিয়ানমার থেকে এবার মূল অংশ বাংলাদেশে চলে এসেছে। রোহিঙ্গা নির্মূল করার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এটাকে মুসলিম সন্ত্রাসবাদ হিসেবে প্রচার করছে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ থাকাতে তারা এটি করে যাচ্ছে। মূল সমস্য সমাধান করতে হবে, তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক চাপ না হলে মিয়ানমার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করবে না।
প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দ্বিপক্ষীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নির্মূলে যে পন্থা নিয়েছে তাদের সে জন্য আইনের আওতায় আনতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রর্ত্যাবসন নিশ্চিত না করে তাদের জোর করে মিয়ানমার পাঠানো যাবে না। রোহিঙ্গা ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।




