নিজেদের স্বার্থ রক্ষার পাহারাদার হিসেবে ছাত্রলীগকে ব্যবহার না করতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলন। আজকে ঢুকতেই দেখলাম, অমুক ভাইয়ের, তমুক ভাইয়ের পক্ষ থেকে শ্লোগান-শুভেচ্ছা। এটা তো শৃঙ্খলার বিষয় না। “আমি আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অনুরোধ করব ছাত্রলীগকে স্বার্থরক্ষার পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। তাতে আপনাদেরও ক্ষতি হবে ছাত্রলীগেরও ক্ষতি হবে। ঘরের মধ্যে আর ঘর করবেন না।”
‘ছোটখাটো ভুলত্রুটি ঘরোয়াভাবে সমাধানের’ আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কথায় কথায় মুখোমুখি, কথায় কথায় মারামারি, কথায় কথায় খুনোখুনি নয়। “আমি ছাত্রলীগকে বলছি, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ হলে সাংগঠনিকভাবে, প্রশাসনিকভাবে আমরা কাউকেই রেহাই দেব না। নেত্রী আমাকে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, ছাত্রলীগের প্রতি নির্দেশনা দিতে। ছাত্রলীগকে আবারও বলছি- খারাপ খবরের শিরোনাম হবে না, সুনামের ধারায় ফিরে আসবে। তা না হলে আরও কঠিন আরও কঠোর ব্যবস্থা আমরা নেব। সড়কমন্ত্রী বলেন, “কারণ আমরা এত সুনাম, এত অর্জন, এত খ্যাতি-ভাবমূর্তি…. গুটিকয়েকের অপকর্মের কাছে শেখ হাসিনার কীর্তিকে জিম্মি করতে পারি না।”
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত এক নেতাকে পরীক্ষা দেওয়াতে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের একাংশ। এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে জড়িত এক নেতা ও ওই ছাত্রকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরআগে সম্প্রতি নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল নির্মাণের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ।সংঘর্ষের পর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুইমিং পুল বাস্তবায়সকারী সিজেকেএর সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির ‘অবশ্যই’ সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করবেন বলে ঘোষণা দেন।
এর আগে ১০ এপ্রিল লালদীঘির জনসভায় সুইমিং পুল নির্মাণ বন্ধে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এরপর ১৪ এপ্রিল নগরীর ডিসি হিলে লাইন ছাড়াই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ঢুকতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার মাথা ফাটিয়ে গ্রেপ্তার হন চার ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। রাউজানের সাংসদ এ বি এম ফজলে করিমের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং এনামুল হক শামীম, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম প্রমুখ।
জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার হয়ে সেনা সদস্যদের নির্যাতনে ওবায়দুল কাদের বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার দলের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। শনিবার পাঁচলাইশের একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় কর্মীদের ওয়ান-ইলেভেনের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক সহকর্মীর কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফের একথা বলার সময় মঞ্চে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ছিলেন। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে অনেক রাজনীতিকের মতো এই দুজনও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বর্তমানে দুজনই মন্ত্রী। মোশাররফ বলেন, “আমাদের মাঝে ওয়ান-ইলেভেন এসেছিল। আজকের সাধারণ সম্পাদক, আমি আর উনি এক রুমে ছিলাম। আমি দেখেছি তার অবস্থা। “তাকে যখন ডিজিএফআই নিয়ে যায় চার দিন পর ফেরত আনে। আমাকে বলছে- ‘মোশাররফ ভাই, আমি ১২ বছর জেল খাটতে রাজি আছি কিন্তু আমি আর ডিজিএফআইয়ের কাছে টর্চারিং এ যেতে চাই না’। “এরকমভাবে আমার কাছে আর্তনাদ করে বলেছে। সেই ওবায়দুল কাদের আজকে এখানে আছেন।




