ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে জামাতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের করা আপিলের সারসংক্ষেপ ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে এ আদেশ দিয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক। কামারুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক।
পরে একরামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসামিপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছে আদালত। ওই দিন বিষয়টি কার্যতালিকায় আসবে।
গতকাল রোববার রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যে সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে। অপর পক্ষ আপিলের সারসংক্ষেপ দিয়েছে কি না এবং শুনানি কবে হবে, সে বিষয়ে আদেশের জন্য বিষয়টি কার্যতালিকায় রয়েছে।
গত ৬ জুন কামারুজ্জামান তার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এর আগে গত ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ১, ২, ৩, ৪ ও ৭ নম্বর। এর মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে ১ ও ৭ নম্বরে যাবজ্জীবন ও ২ নম্বরে ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। তবে ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষে।
উল্লেখ, গত ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের মধ্য দিয়ে কামারুজ্জামানকে বিচারের আওতায় আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে ৭টি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করে।
যেখানে একাত্তরে ২৯ জুন শেরপুরে বদিউজ্জামানকে গুলি করে হত্যা, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাইদ আবদুল হান্নানকে নির্যাতন, ২৫ জুলাই শেরপুরের সোহাগপুরে একদিনেই ১২০ জনকে হত্যা ও নারী ধর্ষণ, ২৩ আগস্ট শেরপুরের নারায়ণপুরে গোলাম মোস্তফাকে গুলি করে হত্যা, ৭১ এর রমজান মাসে শেরপুরের চকবাজার ও ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলিতে গণহত্যা ও নভেম্বরে ময়মনসিংহে টেপা মিঞাকে বেয়নেট দিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল কামারুজ্জামান।
গত বছরের ৪ জুন ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি অভিযোগ গঠন করে। ১৫ জুলাই থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৮ জন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন ৫ জন।
এ বছরের ২৪ মার্চ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২ এপ্রিল থেকে আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল যুক্তি উপস্থাপন পর্ব শেষ হয়।




