একই ব্যক্তির কাছে বার বার না গিয়ে আয়করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, নতুন করদাতা সৃষ্টি ও করবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, একই ব্যক্তির কাছে বাব বার না গিয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে। তবেই মেলার উদ্দেশ্য সফল হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঢাকা-চট্টগ্রামসসহ সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা উদযাপন করছে। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ (কর অঞ্চল-১,২,৩,৪) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।
যাদের আয়কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের প্রতি কর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশে ২৬ লাখ টিইআইএন ধারী ব্যক্তি যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি মনে করি দেশে অন্তত ১ কোটি টিইআইএন ধারী হতে পারে। কারণ গ্রামের এখন অনেকে ভাল ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। করদাতাদের ভয়ভীতি না দেখিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে করদানে উৎসাহিত করা উচিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে লাভ-লোকসানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ ব্যবসায় লাভের পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ কর দিচ্ছে বলেই উন্নয়ন হচ্ছে। এই যে পদ্মা সেতু হচ্ছে, এই টাকা তো জনগণের। সুতরাং জনগণকে করদানে উৎসাহিত করতে পারলে কর আদায় আরও বাড়বে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ফিরোজ শাহ আলম বলেন, এক সময় জাতীয় বাজেটে আয়কর বিভাগের অংশগ্রহণ কম থাকলেও এখন ৪০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিদেশি ঋণ নির্ভরতা কমেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, করদাতাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ করতে চাই। কারণ সবার অংশীদারিত্ব সমান হলে কেউ কাউকে ঠকাতে চাইবে না। তিনি বলেন, করদাতাদের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের দূরত্ব কমিয়ে আনতে চাই। কারণ অধিকাংশ বড় করদাতা বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই খুব সহজে কর দেওয়া যায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, কর বিভাগের কর্মকর্তারা অনেক সময় ৫ লাখ টাকার করকে ২৫ লাখ টাকায় অ্যাসেসম্যান্ট করেন। এতে করদাতারা উৎসাহ পান না। করদাতাদের হয়রানি না করে এবং যারা কর দেয় তাদের উপর প্রভাব না খাটিয়ে নতুন করদাতা সৃষ্টি করার প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, করদাতাদের বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে এ ধরনের মেলা করে কোন লাভ হবে না। করদাতাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। সবাই কর দিতে চায়, কিন্তু হয়রানির ভয়ে ফাইল চালু করতে চায় না।
চট্টগ্রাম কর আপিল অঞ্চলের কমিশনার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য সাবিহা মুছা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর সাহা, ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি মাহবুবুল আলম, কাস্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




