বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে একদিনের ঝটিকা সফরে ঢাকা পৌঁছছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ২৯ আগস্ট সকাল ১০টা ১০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইট। এরপর ১০টা ২৪ মিনিটে ফ্লাইট থেকে নামেন জন কেরি। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটি জন কেরির প্রথম ঢাকা সফর। তবে গত পাঁচ বছরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বাংলাদেশে এটি দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন দু’দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।
জন কেরির সোয়া নয় ঘণ্টা সফরের প্রথম কর্মসূচি শুরু হবে বেলা সাড়ে ১১টায়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে। এরপর জাদুঘরটি ঘুরে দেখবেন তিনি। সেখান থেকে দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুপুর ১টায় ইস্কাটনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ও জন কেরি। কেরির সম্মানে সেখানেই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন রেখেছেন মাহমুদ আলী।
দিনের দ্বিতীয় ভাগে বিকেল ৩টায় জন কেরি ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত ইএমকে সেন্টারে নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিকেল ৪টায় মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি বস্ত্র শিল্প কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ও চ্যান্সারি কমপ্লেক্সে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে বিকেল ৫টায় বৈঠক করার কথা রয়েছে। দিনভর ব্যস্ত সময়সূচি পার করে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন জন কেরি। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক তাকে বিদায় জানাবেন।
তবে ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণে নির্ধারিত কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাতের কথা রয়েছে তার। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরে ঢাকা তাকে এসএসএফ নিরাপত্তাসহ ভিভিআইপি মর্যাদা দিচ্ছে। কেরির সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই, চিফ অব স্টাফ জন ফিনার, ডেপুটি মুখপাত্র মার্ক টোনারসহ তার আরো কয়েকজন সহকর্মী। এছাড়া সিএনএন, এপিসহ পাঁচটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন তার সঙ্গে। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনই সফরের মুখ্য ইস্যু বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে ২৮ আগস্ট মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটও বলেন, সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নতুন অনেক প্রস্তাব নিয়ে ঢাকা আসছেন জন কেরি। বাংলাদেশ নিজের প্রয়োজন বুঝে সে সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারে।




