বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ব্যান্ডেজ খুলতেই রক্ত নয়, বেরিয়ে এলো চকচকে স্বর্ণবার!

ব্যান্ডেজ খুলতেই রক্ত নয়, বেরিয়ে এলো চকচকে স্বর্ণবার!

ধুরন্ধর ছালেক। স্বর্ণ বহন করে তল্লাশি শেষে পার হলেন গ্রিন চ্যানেল। ভেবেছেন নিস্তার পাবেন। বেরসিক গোয়েন্দার চোখ ফাঁকি দিতে পারলেন না। আটকা পড়লেন গোয়েন্দা জালে। নিশ্চিত তথ্য রয়েছে, যাত্রী মোহাম্মদ আবু সালেক স্বর্ণ বহন করছেন। গ্রিন চ্যানেলের বাইরে থেকে এনে করা হলো তল্লাশি। শেষে পায়ের নিচ থেকে জব্দ হলো স্কচটেপ পেঁচানো ১০টি স্বর্ণবার! এভাবে ১৩ আগস্ট রাত নয়টায় চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই ফেরত যাত্রী সালেকের থেকে স্বর্ণবার জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ১৩ আগস্ট রাতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামের লোহাগড়ার নুর আহমেরদ ছেলে মোহাম্মদ আবু সালেক রাত ৯টায় এয়ার অ্যারাবিয়ার (ফ্লাইট নম্বর জি৯-৫২৩) একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ড. মইনুল খানের ভাষ্যমতে, আগেই তথ্য ছিল এ বিমানে স্বর্ণ আসছে। তৎপর ও সর্তক শুল্ক কর্মকর্তারা। গ্রিন চ্যানেলে সন্দেহভাজন যাত্রী এবং তার ব্যাগেজে চলে বিশেষ তল্লাশি।

এর মাঝেও গোয়েন্দার চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণ নিয়ে গ্রিন চ্যানেল পার হয়ে যান স্বর্ণ চোরাকারবারি সালেক। হাত থেকে ফসকে গেছে এমনটাই ভেবে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। তথ্য ছিল সালেক নামে এক যুবক স্বর্ণ বহন করছেন। শুল্ক গোয়েন্দা খবর পায়, সালেক গ্রিন চ্যানেল পার হয়ে গেছে। চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। সিদ্ধান্ত হলো বাইরে থেকে তাকে ধরে আনা হবে। যে কথা সেই কাজ। সালেককে ধরে এনে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। স্বর্ণ কই প্রশ্ন করতেই কড়া জবাব, ‘কোথা থেকে পাব? প্রবাসে চাকরি করি, ছুটিতে বাড়িতে আসছি। আমি কি স্মাগলার?’

সন্তুষ্ট হতে পারলেন না কর্মকর্তারা। ব্যাগেজের পর শুরু হয় শরীর তল্লাশি। নেই আর নেই- উত্তর আসে কর্মকর্তাদের থেকে। মোজা পরলে জুতা এত উঁচু হবার কথা নয়, সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। শেষে চলে পায়ে তল্লাশি। একি! মোজা এত উঁচু কেন? মোজা খুলে কর্মকর্তাদের দেখলেন পায়ে স্কচটেপ পেঁচানো। কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করতেই আবারও সালেকের উত্তর-কেটে গেছে। গোয়েন্দার চোখ বলে কথা। স্কচটেপ সরিয়ে যে কাটা জায়গা দেখতে হবে। ব্যান্ডেজ খুলতেই রক্ত নয়, বেরিয়ে এলো চকচকে স্বর্ণবার। এক দুটি নয় প্রতি পায়ে ৫টি করে মোট ১০টি স্বর্ণবার। ১ কেজি ১৬ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণবারের মূল্য ৪২ লাখ টাকা। আটক সালেক বলতে থাকেন, ‘আমি এর সাথে জড়িত না। একজন আমাকে বলেছে বিমানবন্দরের বাইরে পৌঁছে দিতে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ