শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়লক্ষীপুর আদালতে বোমা হামলার ঘটনায় জেএমবি সদস্য আমজাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড

লক্ষীপুর আদালতে বোমা হামলার ঘটনায় জেএমবি সদস্য আমজাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড

২০০৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতে বোমা হামলার ঘটনায় দুই মামলায় জেএমবির এক সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের পর এবার আরেক সদস্যকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে ১২ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে গত ০৬ এপ্রিল একই ঘটনায় জেএমবির অপর সদস্য মাসুমুর রহমান মাসুমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। ওইদিন আমজাদ আলীকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে মামলা পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার আমজাদ আলীর বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পুনরায় শুনানি শেষে আপিল বিভাগ খালাসের রায় বাতিল করে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং আমজাদ আলীর পক্ষে আইনজীবী হাতেম আলী শুনানি করেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার বলেন, এর আগে ০৬ এপ্রিল মাসুমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ এবং আমজাদ আলীর বিষয়ে পুনর্বিচারের আদেশ দেন। কিন্তু পরে এ আদেশ সংশোধন করে আপিল বিভাগে আমজাদ আলীর বিষয়ে পুনঃশুনানি করা করা হবে বলে জানান। এর প্রেক্ষিতে আজ পুনঃশুনানি শেষে আমজাদকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

২০০৫ সালের ০৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে বিচার চলাকালে বোমা হামলা চালায় জেএমবির সদস্যরা। এ হামলায় ওই আদালতের বিচারক এম এ সুফিয়ান, বেঞ্চ অফিসার মো. শফিকুল্লাহসহ কয়েকজন বিচারপ্রার্থী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে পরে মজিবুল হক নামে এক বিচারপ্রার্থী মারা যান।

ওই দিনই জেলা আদালতের নাজির বজলুর রহমান লক্ষ্মীপুর থানায় মামলা করেন। এ দুই মামলায় লক্ষ্মীপুরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০০৬ সালের ১৫ আগস্ট মাসুম, আতাউর রহমান সানি ও আমজাদ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর মধ্যে অন্য মামলায় সানির ফাঁসি কার্যকর হয়। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। পাশাপাশি তাদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য নথি হাইকোর্টে আসে। দুই আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সর ওপর শুনানি শেষে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট মাসুমের মৃত্যুদণ্ড বহাল ও আমজাদ আলীকে খালাস দেন। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মাসুম এবং আমজাদ আলীর খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ