শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......মনোনয়ন পেতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে মন্ত্রীর বাসায় প্রার্থী

মনোনয়ন পেতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে মন্ত্রীর বাসায় প্রার্থী

নগরীর জামালখান মোড় থেকে আসকার দীঘির পশ্চিম পাড়, সার্সন রোডের দক্ষিণ মাথা থেকে উত্তর মাথা। রাস্তার দু’পাশেই মানুষের থিকথিকে ভিড়। গাড়ির ভিড়। ট্রাক থেকে টেম্পু, জিপ থেকে বাস। সবই আছে সেখানে। সবমিলিয়ে ১৩০টিরও বেশি গাড়ি। ট্রাকের ছাদে মানুষ, জিপের ছাদে মানুষ। বাসের ছাদে ভেতরেও বসে-দাঁড়িয়ে মানুষ। এমনকি জিপের সামনের ইঞ্জিন বক্সের ওপর বসে ঝুঁকি নিয়ে আসছে মানুষ। এত মানুষের গন্তব্য সার্সন রোডে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাসা।

শুক্রবার সকালে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিয়ে কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম আসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাসায়। উদ্দেশ্য একটাই জনসমর্থন দেখিয়ে মনোনয়ন আদায়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বাসের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ব্যানার। তাতে লেখা কথাগুলোর সারসংক্ষেপ, ‘জাহাঙ্গীর আলমকে আনোয়ারার শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চাই’। কেননা জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার এবার শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তাই বাসে-ট্রাক-জিপে করে হাজার দশেক মানুষ নিয়ে এসেছেন তিনি। সকাল ১১টায় মন্ত্রীর সার্সন রোডের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অজস্র মানুষের ভিড়। বাড়ির বসার ঘর থেকে মূল ভবন। সামনের উঠান কিংবা বাড়ির বিভিন্ন পাহাড়ি জায়গা। সবখানেই মানুষ আর মানুষ। চৈত্রের গরমে গাড়িতে চড়ে হাঁসফাস করতে দেখা গেল আগত নারী শিশুদের। আবার তাদের পানি দিতে দেখা গেল স্বেচ্ছাসেবকদের। জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকদের দলে আছে, দুই বছরের শিশু থেকে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধও। ভুট্টো নামের এক টেম্পু ও জিপ সার্ভিসের লাইনম্যান বলেন, ‘সবমিলিয়ে ১৩০টা গাড়ি এসেছে। এর মধ্যে ৭০টার মতো টেম্পু ও জিপ। বিভিন্ন গাড়ির চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনোয়ারার শিকলবাহা থেকে নগরীর সার্সন রোড পর্যন্ত আসা-যাওয়া বাবদ প্রতি বড় ট্রাক তিনহাজার, ছোটো ট্রাক আড়াইহাজার, বাস সাড়ে তিনহাজার এবং টেম্পু ও জিপ ২ হাজার টাকা করে ভাড়া করা হয়েছে। মানুষ নিয়ে আসা মান্নান নামের এক বড় ট্রাকের চালক বলেন, ‘আমাদের আসতে বলা হয়েছে, আমরা চলে এসেছি। আমাদের মালিকদের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। তিন হাজার টাকা দিতে পারে।’

তবে টেম্পু চালক মিঠুন বলেন, ‘আমরা টাকা নিয়ে দরদাম করে আসিনি। জাহাঙ্গীর ভাই আমাদের এলাকার। তার জন্য এমনিতেই মানুষ নিয়ে চলে এসেছি। তবে তিনি টেম্পু চালকদের ২ হাজার টাকা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। দিলে নেব, না দিলে নাই। জিপ চালক মিজান বলেন, ‘আড়াইহাজার টাকা দিয়ে আমাদের ভাড়া করা হয়েছে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাসার মূল গেইটে কথা হয় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। কোলে শিশুকন্যা। তিনি বলেন, ‘আমরা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের প্রতি সমর্থন জানাতে মন্ত্রীর বাসায় এসেছি। দুপুরের দিকে আবার ফিরে যাব। আমার স্ত্রী-মা ও এসেছেন। তারা ভেতরে বসে আছেন।

মন্ত্রীর বাসার ভেতরের উঠানে বসে থাকতে দেখা যায় বেশকিছু বৃদ্ধাকে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, ‘আমাদের আসতে বলা হয়েছে। চলে এসেছি। আমরা গরিব মানুষ। জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান হলে হয়তো আমাদের দেখবে। সহযোগিতা করবে। এটাই আশা। মামুন নামের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘১৩০টি গাড়ি করে প্রায় ১০হাজার মানুষ এসেছেন। তাদের কাউকেই জোর করে আনা হয়নি। সবাই এসেছেন জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সমর্থনে। এর আগে গত বছরের ১৩ মে পাথর ও বালু সরবরাহ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এর প্রতিবাদে মইজ্জারটেক এলাকায় সাড়ে আট ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ রেখেছিল তার সমর্থকরা।  এছাড়া তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, ভূমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ