মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আসুন, সকলে মিলে এদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করি। আমাদের সকলের কর্তব্য এদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই’। ২৪ মার্চ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবময় ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি সংস্থাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করেন তিনি। দেশকে পুরোপুরি দারিদ্র্যমুক্ত করে সমৃদ্ধ সোনার বাংলার গড়ার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামীতে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে দারিদ্র্যমুক্ত করবো। এদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রতিটি মানুষ চিকিৎসা পাবে। না খেয়ে থাকবে না’।তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশ আরও উন্নত হোক, সমৃদ্ধ হোক। বাংলাদেশ নিম্নে থাকবে না, ২০২১ সালের আগে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। আমরা আরো অনেক দূর যেতে যাই। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। কাজেই এই স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়। সে লক্ষ্যে আমাদের কর্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে তোলা। এদেশের মানুষ যেন সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য’। আমরা যখন সরকারে এসেছি, তখন সত্যিকার ভাবে এদেশের মানুষ উন্নয়নের মুখ দেখেছে’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে তখন থেকে এদেশে উন্নতি শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছি আমরা।
তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, তারপর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে হত্যা, ক্যু ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। তাতে এদেশ এগোতে পারেনি। দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমা থেকে উঠে আসছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবো’।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। বাঙালিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। সবাই মিলে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশে হিসেবে গড়ে তুলবো। বিজয়ী জাতি হিসেবে সবাইকে মাথা উঁচু করে চলার পরামর্শও দেন তিনি। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মাননা পেলেন, আমি আশা করি, আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগামী দিনেও সবাই সেভাবে কাজ করবে। গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা-সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ মানবতার সেবায় যারা অবদান রাখছেন তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেন তাদের সম্মান করতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাদের সম্মাননা দিতে চাই এজন্য যেন, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। এ বছর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ১৫ ব্যক্তি হলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এম ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, মরহুম মৌলভী আচমত আলী খান (মরণোত্তর), স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম বীরোত্তম, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার শহীদ শাহ আবদুল মজিদ (মরণোত্তর), রাঙ্গামাটির মহকুমা প্রশাসক এম আবদুল আলী (মরণোত্তর), মরহুম এ কে এম আবদুর রউফ (মরণোত্তর), মরহুম কে এম শিহাব উদ্দিন (মরণোত্তর) এবং সৈয়দ হাসান ইমাম।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির (২১ ফেব্রুয়ারি) স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য মরহুম রফিকুল ইসলাম (মরণোত্তর) ও আবদুস সালাম পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। পুরস্কার পেয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তোষা ও স্থানীয় জাতের পাটের জেনোম সিক্যুয়েন্স আবিস্কারের জন্য কৃষি গবেষক মরহুম অধ্যাপক মাকসুদুল আলম (মরণোত্তর) এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রাফি খান (এমআর খান)। সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে কাজের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কবি নির্মলেন্দু গুণ এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দেশের সমুদ্রসীমার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় নিরলস প্রয়াস চালানোর জন্য বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। নৌ-বাহিনীর প্রধান বাহিনীর পক্ষে ভাইস অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং অন্যরা স্ব স্ব পুরস্কার গ্রহণ করেন।
মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে মরহুম মৌলভী আচমত আলী খানের পক্ষে তার ছেলে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, শহীদ শাহ আবদুল মজিদের পক্ষে তার ছেলে মামুন মাহমুদ শাহ, শহীদ এম আবদুল আলীর পক্ষে তার মেয়ে নাজমা আক্তার লিলি, মরহুম এ কে এম আবদুর রউফের পক্ষে তার স্ত্রী শাহানারা রউফ, মরহুম কে এম শিহাব উদ্দিনের পক্ষে তার ভাই ডা. কে এম ফরিদউদ্দিন, মরহুম রফিকুল ইসলামের পক্ষে তার স্ত্রী দিলরাজ বুলি ইসলাম এবং মরহুম অধ্যাপক মাকসুদুল আলমের পক্ষে তার স্ত্রী রাফিয়া হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমাম। অনষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।




