নগরীতে বহুল আলোচিত মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আবু রায়হান ওরফে আরজু (২৩) এবং শহিদ (২৭)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো.আইয়ূব খান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আলোচিত এ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে উভয়কে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদালতের এ রায়ে বাদি ও রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে যমুনা নামে একটি ভবনের চতুর্থ তলায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৫০) এবং মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা নাজনীন নিশাতকে (১৬) পায়ের রগ কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম বাদি হয়ে দু’জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হল, নিশাতের বন্ধু আবু রায়হান ওরফে আরজু (২৩) এবং ভাড়াটে খুনি শহিদ (২৭)। ওই বছরের ২৫ মে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রেও দু’জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আট পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ৩৭ জনকে সাক্ষী করা হয়।
ওই বছরের ৪ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ৩০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করে। পিপি বলেন, প্রেমে প্রত্যাখাত হয়ে এবং নিশাতের বাবার কাছে অপমানিত হয়ে রায়হান নিশাত ও তার মাকে খুনের পরিকল্পনা করে। এজন্য শহীদকে ভাড়া করা হয়। তারা খুনের পরিকল্পনা নিয়ে নিশাতের বাসায় যায় এবং দু’জনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, খুনের পর লাশ জ্বালিয়ে দেবে। এজন্য তারা পেট্রলও নিয়ে গিয়েছিল। সেই পেট্রল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে। রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত মামলার বাদি রেজাউল করিম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, দুই খুনির ফাঁসি হয়েছে। আমি চাই এ রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।
রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখন আসামি শহীদ উদ্ধত আচরণ শুরু করেন। চিৎকার করে শহীদ বলেন, সব টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। আমি নির্দোষ। আমার টাকা নেই, সেজন্য আমাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, সকল আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত যাতে রায় কার্যকর করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বভূপ্রসাদ বিশ্বাস বলেন, রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। যে অভিযোগের ভিত্তিতে রায় দেয়া হয়েছে, আসামির ১৬৪ ধারার বক্তব্য এবং অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যে সেই প্রমাণ মেলেনা। আমরা দ্রুত এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আশা করি, হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে আমরা সুবিচার পাব।




