পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে জামায়াতের ডাকা হরতাল। বুধবার ভোর ৬টা থেকে হরতাল শুরুর পর নগরীর কোথাও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঠে নামার খবর পাওয়া যায়নি। নিরুত্তাপভাবেই শুরু হয়েছে জামায়াতের ডাকা এ হরতাল। এদিকে হরতালে নাশকতা মোকাবেলায় নগরী ও জেলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। ২৮ ব্যাটালিয়ন বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর তানভীর মাহমুদ জানান, হরতালের মধ্যে বুধবার ভোর থেকে নগরীতে চার প্লাটুন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড থেকে মিরসরাই পর্যন্ত এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি সদস্য টহল দিচ্ছে। হরতালে হাটহাজারী ও বাঁশখালী উপজেলায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন আছে। অন্যান্য উপজেলার জন্য তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য প্রস্তুত আছে। এছাড়া যে কোন উপজেলায় তাৎক্ষণিক সংঘাতের সৃষ্টি হলে মোতায়েনের জন্য কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত আছে বলে মেজর তানভির জানান।
এদিকে হরতালে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরীর কমপক্ষে ৮০টি পয়েন্টে প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভোর ৫টা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোন ধরনের সহিংসতা, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কাউকে সৃষ্টি করতে দেয়া হবেনা। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। প্রায় এক হাজার আট’শ অতিরিক্ত পুলিশ জেলায় দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি জানান। মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মুজাহিদের রায় বহাল রাখার প্রতিবাদে জামায়াত বুধবার সারাদেশে ২৪ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে।




