দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলার কয়েকটি গ্রামে রমজান শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে প্রায় ২ হাজার পরিবারের সদস্যরা রোজা রাখতে শুরু করেছে। শত বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এসব পরিবারগুলো বাংলাদেশে রোজা, ঈদ ও কোরবানী পালন করে আসছে। তবে অন্যান্যবার সাত উপজেলার ৫০টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবারের সদস্যরা একই দিনে পালন করলেও এবার মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসরারিরা বৃহস্পতিবার থেকে রোজা রাখবেন। চন্দনাইশ উপজেলার জাহাগিরিয়া ও মমতাজিয়া দরবার শরীফে অনুসারিরা বুধবার থেকেই রোজা রাখছেন। চন্দনাইশ কাঞ্চন নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুশ শুক্কুর বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বুধবার থেকে রোজা পালন শুরু হয়েছে। এছাড়া জাহাগিরিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরাও রোজা রাখছেন। চেয়ারম্যান বলেন, আমি নিজেও বুধবার থেকে রোজা পালন শুরু করেছি।
মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বজলুল করিম বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার থেকে রোজা পালন শুরু করবো। জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা তাদের তৎকালীন পীরের নির্দেশ অনুসারে এ নিয়ম পালন করে আসছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনগর, সাতবাড়িয়া, হারালা, বাইনজুড়ী, বরকল ও কানাইমাদারী, সাতকানিয়া উপজেলার মীর্জাখীল, চরতী সুইপুরা ও গাটিয়াডেঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ও চুনতী, বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর, চাম্বল, শেখেরখীল, আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ও তৈলারদ্বীপ, পটিয়া উপজেলার কালারপুল, হাইদগাঁও, মলপাড়া, পৌরসদর ও বাহুলি এবং বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ, বেঙ্গুরা ও সারোয়াতলী গ্রামে লোকজন সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে থাকে। বিগত দুইশত বছর আগে তৎকালীন পীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান (রহঃ) একদিন আগে অর্থাৎ পৃথিবীর অন্য যেকোন দেশে চাঁদ দেখা গেলেই রোজা, ঈদ এবং কোরবানী পালনের নিয়ম প্রবর্তন করেন। আর এ নিয়ম চলে আসছে দীর্ঘ দুই শতাধিক বছর কাল ধরে। সারাদেশে মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরাই এ নিয়ন পালন করে থাকে বলে জানা গেছে।




