রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়সুন্দরবন হোটেলের সামনের সংযোগ সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে

সুন্দরবন হোটেলের সামনের সংযোগ সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে

অবশেষে পাঁচদিন পর রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলের সামনের সোনারগাঁও রোড (সি.আর. দত্ত সড়ক) থেকে পান্থপথমুখী ও সার্ক ফোয়ারা বরাবর সংযোগ সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সড়ক দুটি খুলে দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য এ সড়ক দুটি খুলে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুন্দরবন হোটেল সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনের পূর্ব-উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম কোণ ঝুঁকিমুক্ত। সে কারণে এ সড়ক দুটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে সুন্দরবন হোটেলের উত্তর-পশ্চিমপাশের ভবনগুলো এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ভবন দেওয়াল সংলগ্ন পান্থপথ সড়ক ও সোনারগাঁও রোডের পূর্বপাশ ঝুঁকিমুক্ত। তবে উত্তর-পশ্চিম পাশের ভবনগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

খোকন বলেন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ঝুঁকি না থাকায় সি.আর. দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড) থেকে পান্থপথমুখী সড়ক ও কারওয়ান বাজারমুখী সড়ক দুটি মানুষ ও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যদি আবার কোনো ধসের ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়ভার কার এ প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, প্রকৃতির ওপর কারো হাত নেই। আশা করি, এ ধরনের কোনো ঘটনা আর ঘটবে না। আর যদি ঘটে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ভবন ধসের পুরোটা এলাকা বালি দিয়ে ভরাট করা হবে। এরপরে যখন বিশেষজ্ঞরা মতামত দেবেন, তখন এলাকাকে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করা হবে। ভবন ধসের জন্য মেয়র সাঈদ খোকন রাজউককে দায়ী করে বলেন, এ ধরনের ঘটনার জন্য রাজউক ও নির্মাণসংশ্লিষ্টরা দায়ী।

তিনি জানান, তবে ইতোমধ্যে রাজউক ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং পাশাপাশি তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর মেয়র সাঈদ খোকন তার গাড়ির বহর নিয়ে পান্থপথের ওই সড়ক দিয়ে বের হয়ে যান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান, শিকদার গ্রুপের পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান, এমএস ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের মালিক মো. সালাউদ্দিন।

জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের ভবন নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছিল কোরিয়ার কোম্পানি (Donga) ডংগাকে। পরে এদের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় এমএস ডেভেলপমেন্ট। তারাই ন্যাশনাল ব্যাংকের নির্মাণাধীন ভবনটি তৈরি করছিল। গত বুধবার (২৭ মে) সকাল সোয়া সাতটার দিকে রাজধানীর সি. আর. দত্ত সড়কে (সোনারগাঁও রোড) অবস্থিত সুন্দরবন হোটেল সংলগ্ন নির্মাণাধীন ন্যাশনাল ব্যাংকের ভবনটি বিকট শব্দে ধসে পড়ে। এ সময় আতঙ্কে লোকজন দিগবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে সুন্দরবন হোটেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিরাপদে স্থলে সরে যেতে বলে। পরে সুন্দরবন হোটেল কর্তৃপক্ষ সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ