স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত শক্তিশালী হয় এমন কিছু না করতে লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও টকশো’র আলোচকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যারা স্বাধীনতাবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতাই যারা চায়নি, তাদের হাত যেন শক্তিশালী না হয়। তাদের মুখে যেন খোরাক না আসে। তারা যেন কথার খোরাক না পায়। এটুকু সহযোগিতা আমি চাইব।’ বুধবার গণভবনে লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও টকশো’র আলোচকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই। কোনো কাজ না করতে পারলে সমালোচনা অবশ্যই আপনারা করবেন। সমালোচনা থেকে আমরা জানতে পারবো কোথায় সমস্যাটা আছে।’ ‘গঠনমূলক সমালোচনা কাজ শেষ করার প্রতি জেদ তৈরির পাশাপাশি কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০২১ সালকে টার্গেট করেছি। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী। কাজেই ২০২০ সালের মধ্যেই আমরা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী পালন করবো একটা মধ্যম আয়ের দেশে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় খুব কম। আমরা ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত। ৩ বছর ৯ মাস হাতে রয়েছে। তারও আবার ১৫ দিন চলে গেছে। কাজেই এই সময়ের মধ্যে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।’ বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন কোনো ম্যাজিক নয়। আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি বলেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয়ী জাতি। কাজেই যে যত বড় চ্যালেঞ্জ দিক আমরা তা মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাব।’ উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক মিথ্যা দুর্নীতির কথা বলে পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলো। সততাই আমাদের শক্তি। আমরা এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। আমরা এখন নিজের টাকায় পদ্মাসেতু করে যাচ্ছি। পদ্মাসেতুর বিশেষত্ব হলো আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য ইউনিক কিছু করতে চাই। যাতে আমরা গর্ব করতে পারি।’
এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রফেসর অ্যামিরিটাস আনিসুজ্জামান, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান, উপন্যাসিক সেলিনা হোসেন, সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর উপস্থিত লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও টকশো’র আলোচকরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।




