বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতালে এসএসসি ও সমমানের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের আটটি পরীক্ষাও পেছানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রোববারের পরীক্ষা ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং ১০ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। অন্যান্য পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার আগে ন্যূনতম ২ ঘণ্টা আর পরের ২ ঘণ্টা হরতালের আওতামুক্ত রাখা এবং পরীক্ষার দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোতে হরতাল দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন,‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কাছে আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে হরতাল অবরোধ পেছানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম দেশের ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করে তারা হরতাল প্রত্যাহার করবে। কিন্তু আমাদের আশার কথা তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছায়নি বা আমাদের আহ্বান তাদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়নি। তাদের মনে বিবেক জাগ্রত হয়নি।’
মন্ত্রী বলেন,‘আমরা শিক্ষার্থীদের সহিংসতার মধ্যে ঠেলে দিতে পারি না। তাদের জীবনের নিরাপত্তা সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী বলছে পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে তারা কঠোর নিরাপত্তা দিবে। হরতাল-অবরোধের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে নেওয়ার চাপ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। ’
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘গত ৬ বছর ধরে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। সেটি বিএনপি নেত্রী জানেন। বিএনপি নেত্রী বলছেন তাদের আন্দোলন জাতির জন্য। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করে তিনি (খালেদা জিয়া) জাতিকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কারণ একজন শিক্ষার্থী সকালে বলতে পারছে না বিকেলে কি হবে, আগামীকাল কি পরীক্ষা হবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী বলছেন আন্দোলন জাতির জন্য? এর আগে শনিবার সকালে চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কাছে সন্ধ্যার মধ্যে হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। কিন্তু হরতাল প্রত্যাহারের কোন ঘোষণা না আসায় পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো.শাহজাহান, শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. পীযূষ দত্ত ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান উপস্থিত ছিলেন। রোববার সকালে সাধারণ বোর্ডে ইংরেজি(আবশ্যিক) প্রথম পত্র; মাদ্রাসা বোর্ডে আরবি প্রথম পত্র এবং কারিগরি বোর্ডে গণিত-২ (১৯২৩) ও গণিত-২ (৮১২৩) বিষয়ের পরীক্ষা ছিল।
আর মঙ্গলবার(১০ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ বোর্ডে ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র; মাদ্রাসা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-২ (সৃজনশীল) ও সামাজিক বিজ্ঞান-২ (৮১২৪, সৃজনশীল/সাধারণ) বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে একটা পর্যন্ত এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, সহজ বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংষ্কৃতি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর মাদ্রাসা বোর্ডে হয়েছে হাদীস শরীফ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি-২ (১৯২২) এবং ইংরেজি-২ (৮১২২) পরীক্ষা। এসব পরীক্ষা ৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কারণে পিছিয়ে নেওয়া হয়।




