শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্স প্রবাহকে গতিশীল করার লক্ষ্যে নানা স্কিম চালু করেছে :...

কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্স প্রবাহকে গতিশীল করার লক্ষ্যে নানা স্কিম চালু করেছে : এস কে সুর চৌধুরী

খন্দকার শাফায়েত হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রথমবারের মতো দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা প্রবাসীদের সম্মাননা জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশে সরাসরি সর্বোচ্চ রেমিটেন্স পাঠিয়ে ২০ জন এবং বন্ডে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে ৪ জন প্রবাসী এই সম্মাননা পেয়েছেন। রোববার রাজধানীর পূর্বানী হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই ২৪ প্রবাসীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।  ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৩, শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কেsk sur bb a  সুর চৌধুরী, নাজনীন সুলতানা, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) সভাপতি আলী রেজা ইফতেখার প্রমুখ।

দেশে সরাসরি সর্বোচ্চ রেমিটেন্স পাঠিয়ে সম্মাননা পাওয়া ২০ জনের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাহিউল মোহাম্মদ খান মুকিত, ডা. মীর আজমল আলী ও শফি আহমদ চৌধুরী।  ইউএই প্রবাসীদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান, আবুল কালাম, জাফর আহমেদ, মোহাম্মদ এমাদুর রহমান এবং এস এ কে একরামুজ্জামান।কুয়েত প্রবাসীদের মধ্যে আছেন মো. ইমাদুল ইসলাম, জাকির হোসেন ও নাজমুল হোসেন গাজী। ইউএসএ প্রবাসী মো. রেজাউল হাসান ও নিজাম মোহাম্মদ মিয়া। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মো. মুকিতুর রহমান, মালয়েশিয়া প্রবাসী আহমাদুল আমিন, জার্মানী প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম, ফিলিপাইন প্রবাসী আবু তাহের মোহাম্মদ, ইতালি প্রবাসী ওহিদ মোল্লা, হংকং প্রবাসী সাইদুর রহমান হাবিব এবং পাপুয়া নিউগিনি প্রবাসী রবিন রহমান।আর বন্ডে বিনিয়োগ করে পুরস্কার পেয়েছেন কানাডা প্রবাসী মিজান মোহাম্মদ জাহিদ, ইউএই প্রবাসী মোহাম্মদ অলিউর, আব্দুল করিম ও মো. আক্তার হোসেইন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, বিনিয়োগসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণে তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

সুর চৌধুরী বলেন, একটা সময় অদক্ষ জনবল বিদেশে কাজ করতে গিয়ে অনেক হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০১১ সাল পর্যন্ত বিদেশে কাজ করাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই ছিলেন অদক্ষ। এ চিত্র এখন পাল্টেছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করার কারণে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশে স্বাচ্ছন্দে কাজ করছেন। ২০১৩ সালের হিসেবে অনুযায়ী সর্বোচ্চ রেমিটেন্স পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।  সুর চৌধুরী বলেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল’র বাইরে যেসব প্রবাসী হুন্ডি বা অবৈধ পন্থায় দেশে অর্থ পাঠান তারা না জেনে নিজের ও দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করছেন। কারণ এভাবে অর্থ পাঠালে তা এক পর্যায়ে কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়। এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থ মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে ব্যয় হবার সম্ভাবনা থাকে।

 সুর চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্স প্রবাহকে গতিশীল করার লক্ষ্যে আকর্ষণীয় মুনাফা ও সুবিধা সংবলিত নানা স্কিম চালু করেছে। সরকারি তথ্য অনুসারে গত ৫ বছরে প্রায় ২.৩৫ মিলিয়ন জনবল বিদেশে স্থানান্তর হয়েছে। গত অর্থবছরে ইনওয়ার্ড রেমিটেন্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪.৪৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার।চলতি অর্থবছরের (২০১৪-২০১৫) অক্টোবর পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিটেন্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.০২ বিলিয়ন ইউএস ডলার। চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৬৬ শতাংশই ইনওয়ার্ড রেমিটেন্সের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।  বাংলাদেশ সরকার এবং কেন্দ্রিয় ব্যাংক রেমিটেন্স প্রবাহকে গতিশীল করবার লক্ষ্যে অনেক আকর্ষণীয় মুনাফা ও সুবিধা সংবলিত নানা স্কিম প্রচলন করেছে; যেমন -ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউ.এস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউ.এস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি একাউন্টের মাধ্যমে বিদেশ হতে অর্থ প্রেরণ এবং বিনিয়োগের নানা সুবিধা উন্মোচন করেছে। পাশাপাশি ইউ.এস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউ.এস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফায় কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও অনিবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিগণ যাতে শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা একাউন্ট  চালু করেছে। আর এর সবই করা হয়েছে আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ যাতে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে আসে, এর সঠিক ব্যবহার হয় তথা দেশ ও দশের কল্যাণ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ সম্মাননা পাওয়া মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান বলেন, এই সম্মাননা পাওয়ার কারণে প্রবাসের সব বাংলাদেশি বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহিত হবেন। আমরা মনে করি বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল দেশ গঠনে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। মাহতাবুর রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা ইপিজেড গড়ে তোলা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার দাবি জানান। পাশাপাশি ডলার ক্রয় ও বিক্রয়ের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ডলার ক্রয় ও বিক্রয়ের ব্যবধান অনেক বেশি। এই পার্থক্য কমিয়ে আনলে অথবা একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নিয়ে রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হলে প্রবাসীরা দেশে আর বেশী রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ