স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও তাদের উদ্ভাবনী শক্তি রয়েছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন কোনো রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবে না। সকল রোগী দেশেই চিকিৎসা সেবা নেবেন। বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনরুমে পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গ্রামে থাকতে চিকিৎসকদের অনীহা সর্ম্পকে তিনি বলেন, যদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এবং অন্য সরকারি কর্মকর্তারা ঢাকার বাইরে থাকতে পারে, তবে ডাক্তাররা কেন পারবে না? তবে আইন করে কতটুকু করা যাবে! ডাক্তারদের নিজেদের বিবেককে জাগাতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের চিকিৎসা সেবায় গলদ রয়েছে। এখন মাছ ব্যবসায়ী সার্জনের কাজ শুরু করেছে! গ্রামে গেলে মনে হয় না, স্বাস্থ্যখাতে আমাদের সাফল্য রয়েছে। এলাকার জনগণ, সংসদ সদস্যরা আমার কাছে অভিযোগ করছেন, চিকিৎসক নেই। মন্ত্রী জানান, বিসিএস এর মাধ্যমে দ্রুত সাড়ে ৬ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ার পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে পেশাজীবীদের দ্বন্দ্বের কথা বলেন তিনি।
নাসিম বলেন, চিকিৎসকদের পদোন্নতিতে আমলারা অনেক সময় বাধার সৃষ্টি করেন। তবে আমি বলেছি, তাদের বড় পদগুলোতেও নিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা অপারেশনে জন্মগত হৃদরোগে অতি দরিদ্র শিশুদের অপারেশনের জন্য বিভিন্ন ডিভাইস, স্ট্যান্ট লাগানোসহ চিকিৎসা সচল রাখার স্বার্থে বাৎসরিক ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু সার্জারি কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানেরও আশ্বাস দেন মন্ত্রী। পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে হার্ট ও রক্তনালীর জটিল সমস্যায় আক্রান্ত যে কোনো বয়সের শিশু রোগীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব চালু হওয়ায় রোগীরা স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রহুল আমিন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আবু সিদ্দিক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক (ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজির ডিভিশন প্রধান) ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু কার্ডিওলজি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও বিএসএমএমইউ’র বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএসএমএমইউর প্রক্টর অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম জাকারিয়া স্বপনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে যেকোনো বয়সের নবজাতক অথবা শিশুদের জন্মগত হার্টের কিংবা শরীরের যেকোনো রক্তনালীর গঠনগত ত্রুটি থাকলে তা কার্ডিয়াক বা পেরিফেরাল এনজিওগ্রামের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা যায়। আবার জন্মগতভাবে হার্টের বাড়তি ছিদ্র থাকলে তা কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে অপারেশন ছাড়াই বন্ধ করা যায়। যেমন, এএসডি ডিভাইস ক্লোজার, ভিএসডি ডিভাইস ক্লোজার। এছাড়া পিডিএ ডিভাইস ক্লোজার, সরু রক্তনালীর স্টেনটিং, কিংবা বেলুন ডায়লেটেশন ইত্যাদি কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাবে ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হার্ট এবং রক্তনালীর যে সমস্ত জন্মগত গঠনগত জটিল রোগের শৈল চিকিৎসা বা সার্জারির প্রয়োজন হয় তাদেরও কার্ডিয়াক বা পেরিফেরাল এনজিওগ্রাম করা থাকলে সার্জারি করা সহজতর হয়।




